লটারি বিক্রি করে আর কত টাকাইবা রোজগার করেন! সীমিত ক্ষমতাতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন আলিপুরদুয়ারের যুবক। একদল পড়ুয়াকে নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনেই অসুস্থ, হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিল ছাত্রী

ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা আলিপুরদুয়ারের প্রান্তিক শহর জয়গাঁও। এই শহরেই থাকেন আমিনুর ইসলাম। অভাবকে সঙ্গী করেই বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনাও করতে পারেননি আমিনুর। অল্প বয়সেই ধরতে হয় রোজগারের পথ। সংসার চালানোর জন্য লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লটারি বিক্রি করা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হয়, পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছল্য আসে। এরপর নিজের লক্ষ্যও স্থির করে ফেলেন আমিনুর। কমিশন বাবদ যা পেতেন, তা থেকেই একটু একটু করে টাকা জমাতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু কেন? আমিনুর ইসলামের বক্তব্য, 'অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি। একসময়ে লোকের দরজায় দরজায় গিয়ে লটারি বিক্রি করতাম। নিজের সন্তানদেরও ধার দেনা করে পড়িয়েছে। ভাবলাম, পরীক্ষার ক'টা দিন যদি পড়ুয়াদের হাতে যাতায়াত ও টিফিনের খবর বাবদ কিছু টাকা তুলে দিতে পারি, তাহলে ওদের খানিকটা উপকার হবে।' 

আরও পড়ুন:বিপদে বন্ধু পুলিশ, পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রীর অ্য়াডমিট কার্ড পৌঁছে দিলেন এএসআই

আরও পড়ুন: বক্সার ছাপোষা ট্যুর গাইড-এ মজলেন হ্যারি পটার খ্যাত রাউলিং, আসছে নতুন উপন্যাস

মঙ্গলবার, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথমদিনে এলাকার ২৬০ জন পড়ুয়াকে ৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিলেন আমিনুর ইসলাম।  কিন্তু যারা টাকা নিল, তাঁরা সকলে প্রকৃতই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তো? টাকা দেওয়ার আগে প্রত্যেকের অ্যাডমিট কার্ডের ছবিও তুলে রেখেছেন লটারি বিক্রেতা। আগামীদিনেও এভাবেই পড়ুয়াদের পাশে থাকতে চান তিনি।