পরিচালক: নীতিশ রায়

অভিনেতা-অভিনেত্রী: মানালী দে, কনীনিকা বন্দোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সুজয় কুমার সাহা, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, দেবলীনা কুমার

গল্প: ঠাকুরমার ঝুলির বুদ্ধ ভূতুম গল্প অবলম্বনেই এই কাহিনি। গল্পে বুদ্ধু ও ভুতুম দুই ভাই বোন সেই সঙ্গে তারা রাজার সন্তান অথচ ভাগ্যক্রমে তারা বড় হয়ে ওঠে জঙ্গলে। অপরদিকে রাজা থাকত তার বড় রানীকে ও তাদের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে। বড় রানীর ছেলের স্বভাবের জন্য রাজ্যবাসীরা তাঁকে পছন্দ করত না। অপরদিকে বুদ্ধু ছিল সকলের নয়নমনী। রাজপুত্র বুদ্ধু ও রাজকন্যা ভূতুম পাথর হয়ে থাকা এক রাজার রাজত্বে গিয়ে প্রাণ ফিরিয়ে দেয় তাদের। পরে সেই দেশের রাজার নাতনির সঙ্গেই বিবাহ হয় বুদ্ধুর । 

অভিনয়: 'বুদ্ধ ভূতুম' ছবিতে সবার অভিনয়ই বেশ ভালো। লকেটের অভিনয় এখানে বেশ ভালো। লকেট এখানে রাজার বড় রানীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই ছবিতে লকেটের দুরকমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট দেখাতে পাওয়া যাবে। এবং এই দুরকমের চারিত্রিক বৈশিষ্টকে একই সঙ্গে যে ভাবে তিনি তুলে ধরেছেন তা দেখবার মত। লকেট ছাড়াও আছেন কনীনিকা। তার অভিনয়ও বেশ ভালো। কনীনিকা এখানে রাজার মেজো রানীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। একজন অভিনেত্রী হিসাবে তাঁর অভিনয় আগেও দর্শকদের নজর কেড়েছে। এই ছবিতেও তাঁর অন্যথা হবে না। এবার আসা যাক মানালী এবং দেবলীনার অভিনয়ের কথায়। তাঁদের অভিনয়ও বেশ ভালো। মানালীকে এখানে ভুতুমের বোনের ভুমিকায় দেখা যাচ্ছে। একজন বোন যেমন ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ববান হয় ঠিক তেমনই ভাবে এই ছবিতে মানালীকে দেখা যাবে। দেবলীনা এখানে ভুতুমের মা এবং রাজার ছোট রানী। তাঁর অভিনয়ও বেশ ভালো। 

চিত্রনাট্য: বুদ্ধু আর ভূতুমের কাহিনি নিয়েই সম্পূর্ণ ছবিটি। বুদ্ধু আর ভূতুম দুই ভাই বোন। রাক্ষসের হাত থেকে তাদের দেশ জয়ের কাহিনি নিয়েই এই ছবি। সেই সঙ্গে গল্পে আছে আরও নানা টুইস্ট। 

সিনেম্যাটোগ্রাফি: ছবিটি সম্পূর্ণই প্রায় তৈরি হয়েছে ভিএফএক্স -এর মাধ্যমে। টলিউডে সম্পূর্ণ ছবিতে আগে খুব কমই ভিএফএক্স এর ব্যবহার দেখা গিয়েছে। এই ভিএফএক্স তেমন নজর কাড়া না হলেও। ছোট বেলার রূপকথার গল্প বড় পার্দায় দেখতে বেশ ভালো লাগবে। সুতরাং বাচ্চাদের একবার এই ছবিটি দেখাতেই পারেন খুব একটা খারাপ লাগবে না।

পরিচালনা: শিশু সাহিত্য নিয়েই বেশিরভাগ কাজ করে থাকেন পরিচালক নীতিশ রায়। এছাড়াও তিনি যে অ্যানিমেশন এবং ভিএফএক্স নিয়ে কাজ করতে বেশ পছন্দ করেন তা বোঝাই যায় এই ছবি থেকে।