কেন্দ্রে আবার জায়গা করে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলি। রাজনীতির ময়দানে যে সাফল্যের ঘনঘটার অধিকারী হলেন নরেন্দ্র মোদী, তেমনটাই কি হল রূপোলি জগতেও! বুঝতেই পারছেন, বলা হচ্ছে তাঁর বায়োপিক পিএম নরেন্দ্র মোদীর কথা।  সাতটা দফার ভোটের এত চাপান উতরের পরে সেই রেশ নিয়ে একবার দেখে আসলেও আসতে পারেন! 
 
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আটকে গিয়েছিল এই ছব। অবশেষে আজ সেই ছবি মুক্তি পেল। ছবিতে মোদীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিবেক ওবেরয়। প্রথম থেকেই  বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল মোদী হিসেবে কতটা মানানসই বিবেক। চেহারা ও মেক আপে প্রাণপণ মোদী হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন বিবেক। ছবির পোস্টার ও ট্রেলারেই তা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু অভিনয়ে ঠিক মোদীকে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি বিবেক। চা-ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠা মোদীর ঋজু অভিব্যক্তির কাছে বেশ খানিকটা দুর্বলই লেগেছে তাঁকে। তবে একটা ভাল জিনিস, বিবেক বুঝেছেন বায়োপিক মানেই মিমিক্রি নয়। তাই মোদীকে মিমিক করার চেষ্টা করেননি তিনি। 

এই ছবির পরিচালক ওমাঙ্গ কুমার এর আগেও বলিউডে বায়োপিক বানিয়েছেন। যেমন সর্বজিৎ, মেরি কম ইত্যাদি। এই ছবিগুলি বক্স অফিসে হিট ছিল। কিন্তু কোথাও গিয়ে মোদীর জনপ্রিয়তার ধারেকাছে আসতে পারল না তাঁর বায়োপিক। 

প্রত্যেকের অভিনয়তেই যেন জড়তা কাজ করেছে বলে মনে হয়েছে। ছবিতে রাহুল গান্ধী ও মনমোহন সিংএর ভূমিকায় যাঁরা রয়েছেন তাঁদের অভিনয় নিয়ে নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়। যেন পুরোটাই ক্যারিকেচর হয়েছে লোক হাসাতে। এমনকী চিত্রনাট্যেও তেমন মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। এই ছবির সবচেয়ে বড় ঘাটতি হল এই ছবিতে নতুন কিছুই নেই। মোদীর চা বিক্রি করা থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠা সবটাই সবার জানা। শুধু নতুন মোড়কে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে যাঁরা অজানা তথ্য খুঁজতে ছবিটি দেখতে যাবেন, তাঁরা হতাশ হবেন। 

এছাড়া এই ছবিতে গুজরাটের দাঙ্গার মতো ঘটনা যেন ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এই বিতর্কিত ঘটনাগুলির সমধান  স্বরূপ বলে দেওয়া হয়েছে, সবই বিরোধীদের চক্রান্ত।

দ্বিতীয়ত এই ছবিতে শুধুই মোদীর উজ্জ্বল দিকগুলি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি যেন ভগবানেরই অংশ। সারাদিন বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকেন, পড়াশোনা করেন, দেশপ্রেমে মজে থাকেন। কোনও দুষ্টুমি ভুল কিছুই নেই। তাই বায়োপিকের বদলে একে ভাবমূর্তি গঠনমূলক ছবি বলা যেতে পারে।  অবশ্য রাজকুমার হিরানির সঞ্জুও তেমনই ছিল।

তবে এই ছবি বক্স অফিসে  মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। সারা দেশ এখন নরেন্দ্র মোদীতে মজেছে। যিনি একার ক্ষমতায় ৩০০-র বেশি আসনে জয়ী হতে পারেন, তাঁর বায়োপিক যেমনই হোক, তা ব্যবসা ভালই করবে আশা করা যায়। তাই বলা ভাল, বিবেক ওবেরয়ের সাপে বর হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ছবিটি মুক্তির তারিখ পিছিয়েছিল। আর বেরোল সেই জয়ের পরের দিন। এই বিরাট জয়ই যেন ছবির প্রচার হিসেবে কাজ করল।