ছবির নামঃ দেবী
পরিচালকঃ প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ কাজল, মুক্তা বার্ভে, নীনা কুলকর্নি, নেহা ধুপিয়া, শ্রুতি হাসান, রমা যোশি, সন্ধ্যা মাথরে, শিবানী রঘুবংশী, যশস্বিনী দয়ামা
প্রযোজক সংস্থাঃ ইলেকট্রিক অ্যাপেলস এন্টারটেনমেন্ট


গল্পঃ একাধিক মহিলা, ১৮ থেকে ৮০-র মধ্যে সকলেই থাকে একটি ছোট্ট বাড়ির মধ্যে। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে মহিলাদের সংখ্যা। একের পর এক বাড়ির সদস্য বেড়ে চলায় লেগে যাচ্ছে ঝগড়াও। সদস্যদের মধ্যে কয়েকজনের মতামত আর কোনো মহিলাকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না বাড়িতে। অন্যাদিকে একটি দল বলছে যারা বাইরে অপেক্ষা করছে তাদের কিছুতেই ফেরত পাঠানো যাবে না। ঠিক কী নিয়ে বাড়ছে সমস্যা। প্রথমদিকে বিষয়বস্তু বুঝতে না পারলেও পরতে পরতে খুলতে শুরু করল কাহিনী। এখনকার সময় দাঁড়িয়ে ধর্ষিতাদের এক ভিন্ন জগতকে তুলে ধরেছে পরিচালক প্রিয়াঙ্কা। শর্ট ফিল্মটির প্রতিটি চরিত্রই আসলে মৃত। অধিকাংশেরই খুন হয়েছে ধর্ষণ হওয়ার পর। মৃত্যুর পর তাদেরই জগতকে তুলে ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা।  


অভিনয়ঃ কাজল, মুক্তা, নেহা, শ্রুতি তো অভিনয় জগতের যথেষ্ট চেনা মুখ। এছাড়া যশস্বিনী ওয়েবের দুনিয়া থেকে শুরু করে ইতিমধ্যেই বলিউডে আলিয়া ভাটের সঙ্গে 'ডিয়ার জিন্দাগি' ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন। রমা, নীনা, শিবানী, সন্ধ্যা, অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাঁরাও সমানভাবে নজর কেড়েছে দর্শকের। স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে যেখানে সকলের সমানভাবে স্ক্রিনটাইমিং হয় না, তবুও প্রত্যেকের অভিনয় প্রশংসনীয়। 


চিত্রনাট্যঃ ধর্ষণ। শব্দটা আজকাল অতি সহজেই বলে ফেলতে পারেন সকলে। কারণ নিত্যদিন প্রত্যেক মুহূর্তেই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে মেয়েদের। এই সমস্যা বাড়ছে বই কমে না। ধর্ষণের কারণ হিসেবে অনেকেই মহিলাদের পোশাক, আচরণকে দোষ দিয়ে থাকেন। বারো মিনিটের ছবিতে সেই বিষয় নিয়েও কড়া বার্তা রাখা হয়েছে। মহিলাদের সুরক্ষায় ঢুকে গিয়েছে সমাজ, সংসস্কৃতি, দুর্নীতি। ধর্ষণকে 'মুদ্দা' বানিয়ে চলে রাজনীতিও।       


সিনেমাটোগ্রাফিঃ ডার্ক শেডের মধ্যে দিয়ে ছবিটিকে সাজানো হয়েছে। ছবির বিষয়বস্তুর সঙ্গে ডার্ক শেডটি বেশ ম্যাচ করছে। ছোট খাটো শটগুলিকেও নিয়ে খেলেছেন সিনেম্যাটোগ্রাফার সবিতা সিং।


কথা-গানঃ ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়ে কাজ করেছেন যশ সহায়। খানিক ডার্ক মিউজিকের ব্যবহার করা হয়েছে ছবিতে। এছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়ে যে সূক্ষ্ম কাজ যশ করেছেন তা ছবির গভীরতাকে যথাযতভাবে বিচার করেছে। 


পরিচালনাঃ প্রথমত বিষয়বস্তু, চিত্রনাট্যের প্রশংসার অন্ত হয় না। ধর্ষণ নিয়ে স্পর্ষকাতর ছবি অনেকেই করে থাকেন, তবে এই ভিন্ন জগতের কথা নিয়ে প্রিয়াঙ্কাই গবেষণা করেছেন। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও রীতিমত ভেবেছেন তিনি। প্রথমেই উল্লেখিত সমাজ অধিকাংশ মানুষ ধর্ষণের জন্য মহিলাদের পোশাক, আচরণকে দোষ দিয়ে থাকেন। তাই এই ছবিতে সমস্তরকমের পোশাক পরা মহিলাদের দেখানো হয়েছে। বোরখা থেকে শাড়ি, হট প্যান্ট, ফর্ম্যাল শার্ট প্যান্ট। এছাড়াও শেষের দিকে যেভাবে মুহূর্তের মধ্যে গল্পের মোড় ঘুরল তাতে সকলেরই বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।   


সমালোচনাঃ স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে এই ধরণের একটি বিষয় দেখানোই বেশ বুদ্ধিমানের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। কারণ এই বিষয়টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিতে তেমনভাবে দেখানো যেত কিনা সেই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি হলে চিত্রনাট্যের তেমন স্বাদ পাওয়া যেত না।


বিশ্লেষণঃ পোশাক, বয়স কিংবা আচরণ কখনই ধর্ষণের কারণ হতে পারে না সেই বার্তাই প্রতি সময় প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি শ্রুতি হাসানের মদ্যপানের সিক্যোয়েন্স আছে, তার দ্বারাও বোঝানো হয়েছে মহিলাদের ধুমপান কখনও ধর্ষণকে উৎসাহ জাগায় না। বোরখা এবং হট প্যান্টের মধ্যে যে কোনও পার্থক্য নেই। এমন বয়সের পার্থক্যও দেখা গিয়েছে ছবিতে।