ছবির নামঃ 'গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল'
পরিচালকঃ শরণ শর্মা
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ জাহ্নবী কাপুর, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, অঙ্গদ বেদী, বিনীত কুমার সিং, মানব ভিজ
প্রযোজক সংস্থাঃ ধর্মা প্রোডাকশন

গল্পঃ ভারতীয় এয়ারফোর্সের প্রথম মহিলা ফ্লাইট লেফ্টানেন্ট গুঞ্জন সাক্সেনা। কঠোর পরিশ্রম, ট্রেনিংই কেবল তাঁর জীবনের চ্যালেঞ্জ ছিল না। আসল চ্যালেঞ্জ ছিল সমাজের বিরুদ্ধে, ট্যাবু ভেঙে নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়া। টানা সাত বছর এয়ার ফোর্সে দেশের জন্য কাজ করেন গুঞ্জন সাক্সেনা। গুঞ্জন থেকে অফিসার সাক্সেনার গল্পই সিনেপর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে।  

অভিনয়ঃ ডেবিউ ছবি 'ধড়ক'র পর জাহ্নবী কাপুরের অভিনয়ে এসেছে বেশ উন্নতি। তবে শরীরের স্টিফনেস ধরা পড়েছে ছবির কিছু দৃশ্য। অন্যদিকে প্রতিবারের মত সকলের থেকে লাইমলাইট ছিনিয়ে নিলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি। অ্যান্টাগন্সিটের ভূমিকায় বিনীত কুমার সিং অসামান্য। মানব ভিজের অভিনয় দক্ষতায় বরাবরের মত মুগ্ধ দর্শকমহল।

চিত্রনাট্যঃ মহিলা পাইলট আবার হয় নাকি। খুব বেশি হলে এয়ার হোস্টেস। এখানেই সীমিত থাকে সকলের চিন্তাভাবনা। নব্বইয়ের দশক বা বর্তমান সময়। মানসিকতায় বিন্দুমাত্র আসেনি পরিবর্তন। দেশাত্মবোধক ছবির মাধ্যমেই পরিচালক শরণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের গালে বসিয়েছে চর। মহিলাদের নিজের জায়গা তৈরি করতে সংসারে যতখানি পরিশ্রম করতে হয় ততটাই এয়ার ফোর্সের ময়দানে। সেই নিত্যদিনের যাত্রাই সিনেপর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ চপারের দৃশ্যগুলি অত্যন্ত সুন্দরভাবেই দেখানো হয়েছে ছবিতে। সিজিআইয়ের ব্যবহার এখানে সঠিক পরিমাণেই হয়েছে। এছাড়া ছবির লাইট সফ্ট টোনের বিষয়টিতে ছিল সুথিং টাচ। 

কথা-গানঃ নিঃশব্দতাতেও প্রতিবাদ। ছোট খাটো হালকা সংলাপেও রয়েছে সমাজের ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসার কড়া জবাব। গুঞ্জনের দাদা, অংশুমান এবং গুঞ্জনের ছোটবেলার একটি দৃশ্য ছিল যেখানে অংশুমানকে বলেছে সে পাইলট হতে চায়। এবং অংশুমান স্বাভাবিকভাবেই বলতে থাকে "এই বিমানে চারটি আপৎকালীন দ্বার আছে। দু'টি আগে এবং দু'টি পিছনে।" সঙ্গে পঙ্কজ ত্রিপাঠি এসে অংশুমানকে বলেন, "আর আপনি কোন দ্বার থেকে বাইরে যাওয়া পছন্দ করবেন।" ঠাট্টার ছলে হলেও মেয়র স্বপ্নের প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে এভাবেই সরিয়েছেন গুঞ্জনের বাবা।

পরিচালনাঃ শরণ শর্মার পরিচালনা প্রায় পারফেক্ট। অতিনাটকীয় কিংবা অতিরিক্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও দৃশ্যই ছবিতে নেই। বায়োপিকে ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই পরিবেশন করেছেন তিনি। 

সমালোচনাঃ প্রথমেই আসা যাক মেকআপে। ছবির ওভারঅল মেকআপে নেই কোনও অভিযোগ। ধর্মা প্রোডাকশন মানেই যে গ্ল্যামার কোশেন্ট থাকতেই হবে, এই গতে বাঁধা আইডিয়া থেকে বেরতে পারেননি করণ জোহার। গুঞ্জন সাক্সেনার মুখে একটি মোল অর্থাৎ আঁচিল রয়েছে। থুতনির দিকের সেই আঁচিল ছবিতে গায়েব জাহ্নবীর মুখ থেকে। একটি বায়োপিক মানেই সেই চরিত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয় থাকা চাই। যা নিয়ে পরবর্তীকালে হয় চুলচেঁড়া বিশ্লেষণ। জাহ্নবীকে কি আঁচিলের মেকআপ দেওয়া হলে কমে যেত গ্ল্যামার কোশেন্ট তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এছাড়া তাঁর শরীরের স্টিফনেস কিছু দৃশ্যে একেবারে ফিকে লাগতে থাকে। বিশেষত পঙ্ক ত্রিপাঠি, বিনীত কুমার সিং এবং মানব ভিজের মত অভিনেতাদের সামনে এই বিষয়গুলি খানিক বেশিই চোখে লাগে।  

বিশ্লেষণঃ ছোট থেকেই মহিলাদের বলে দেওয়া হয়, রান্নাঘর তোমাদের গণ্ডি, গোলাপী রঙটা মহিলাদের রিপ্রেজেন্ট করে। পুতুল ছাড়া আর কিছু নিয়ে খেলা বারণ। ক্রিকেট, ফুটবলের মেয়েরা আবার কী বোঝে। মহিলা গাড়ি চালক হলেই, এই রে! দুর্ঘটনা ঘটল বলে। এমনই নানা ধরণের স্টিরিওটিপিকাল কথা শুনে শুনে মহিলারাও নাজেহাল। সেই সময় দরকার হয় অনুপ সাক্সেনার (পঙ্কজ ত্রিপাঠি) মত বাবাদের। যারা হাসিমুখে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে একটাই কথা বলবে, "এগিয়ে যা মা! আমি পাশে আছি তো।" যখন গোটা দুনিয়া মুখ ফিরিয়ে নেবে, মহিলারা দাঁড়াবে মহিলাদের বিরুদ্ধে তখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজ থেকেই উঠে আসবে এমন পিতা।