ছবিঃ শকুন্তলা দেবী

পরিচালকঃ অনু মেনন

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ বিদ্যা বালান, সানিয়া মালহোত্রা, যিশু সেনগুপ্ত 

গল্পঃ এক সাধারণ মেয়ের অঙ্কে জিনিয়াস হয়ে ওঠার বাস্তব গল্পই শকুন্তলা দেবী। তিনি মানব কম্পিউডটর হিসেবেই ছিলেন পরিচিত। বায়োপিকের শুরু হয় যখন শকুন্তলা দেবীর বয়স তিন বছর। সেখান থেকেই বিদেশে পাড়ি, অঙ্ক কষে সকলের মন জয় করা। তবে জীবনের জটিল অঙ্ক সমাধানে বেজায় বেগ পেয়েছিলেন তিনি। কীভাবে দুই দিকে ভারসাম্যে নাজেহাল হয়েও বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি গল্পের প্রতিটা ভাঁজে তারই নিদর্শণ। 

অভিনয়ঃ বিদ্যা বালান পর্দায় থাকা মানেই তা এক ভিন্ন স্বাদ তৈরি করে। শকুন্তলা দেবীও সেই তালিকা থেকে বাদ পড়ল না। জীবনের প্রথম অধ্যায়ে মজার দৃশ্য থেকে শুরু করে পরবর্তীতে কঠিন সমস্যার সন্মুখীন, প্রতিটি ধাপেই বিদ্যার অভিনয়ই ছবির মূল রসদ। পাশাপাশি সানিয়াও আশা অনুযায়ী দর্শকদের নজর কেড়েছেন। যিশু সেনগুপ্ত অনবদ্য। বিদ্যার বিপরীতে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে খানিক আরও একবার অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিলেন তিনি। 

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্যের অনবদ্য বুনট। ছবির পরতে-পরতে থাকা নানা ওঠা পড়ার গল্পই যেন ছবিকে এক কথায় সাজিয়ে তুলেছেন এক ভিন্ন স্বাদে। কোনও অংশেই নেই একঘেয়েমি। শকুম্তলা দেবীর জীবনের প্রতিটা পর্বকেই খুব সুক্ষ্মভাবে ছুঁয়ে গিয়েছে এই ছবি। যা সকলের নজরে এক সুন্দর স্টোরি লাইনের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভবপর হয়েছে গল্প বলার ধরণে।

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ১৯৫০ সাল থেকে শুরু ছবিরহ গল্প বলা। যার ফলে এক এক দশকে বদলাতে থাকে পর্দার রং, সেটের দৃশ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বদলকেই অস্ত্র করে সিনেম্যাটোগ্রামি এই ছবিতে দেখালো নিজের কেরামতি। লন্ডন সফর থেকে শুরু করে পরবর্তীতে সংসার জীবন, প্রতিটা সেটকেই যেন জীবন্ত করে তুলতে সক্ষম হয়েছে ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার। যার ফলে ছবি এগিয়ে থাকে আরও এক ধাপ। 

মেকআপঃ ট্রেলার সামনে আসতেই দেখা দিয়েছিল বিদ্যার নয়া লুক। এক দীর্ঘ জার্নি তুলে ধরা কয়েকটি ফ্রেমে। যার ফলে একাধিক লুক ধরা পজড়ে এই ছবিতে বিদ্যার মধ্যে দিয়ে, বয়স বৃদ্ধি, পরিস্থিতির পরিবর্তণ, সময়ের পরিবর্তণ সব কিছুকেই ছুঁয়ে যায় এই ছবি মেকাআপ, যা গল্প বলা অনেকাংশে সহজ করে তোলে। 

পরিচালনাঃ অনু মেনন ছবির কাজ হাতে নিয়েই জানিয়েছিলেন যে তাঁর কাছে এক চ্যালেঞ্জের বিষয়। ছবিকে পার্ফেক্ট করে তোলার আগে প্রথম নজরে ছিল পরিচালকের গল্প। আর সেই গল্পকেই যত্নে বুনলেন প্রতিটা ফ্রেমে। যা এক কথায় সকলের নজর কাড়ল। ছবির মূল দুটি ধাপ। প্রধম অধ্যায়ে মজার ছলে অঙ্ক নিয়ে রসিকতা, অন্যদিকে ১৯৭০ দশকে মেয়েদের জীবনের সংগ্রাম, দুই যেন প্রকোট হয়ে ধরা পড়ল ছবিতে। 

সমালোচনাঃ অঙ্কের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই তাই এই ছবি দেখার নয় ভাবাটা এক কথায় ভুল। কারণ অঙ্কের বাইরেও েই ছবি আরও অনেক গল্প বলে। যা এক কথায় সকলের জানা একান্ত প্রয়োজন। সংসার ও স্বপ্ন দুই ভারসাম্য বজায় রেখে পথ চলাটা একাধিক সময় কঠিন মনে হলেও ময়দান ছেড়ে চলে যাননি শকুন্তলা দেবী, ছবির গল্পে লুকিয়ে থাকা এই কঠিন লড়াই যেন শকুন্তলা দেবীর আসল গল্প।