পরিচালকঃ মোহিত সুরি

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ আদিত্য রায় কাপুর, দিশা পাটানি, অনীল কাপুর

গল্পঃ আদিত্য ও দিশা ঘটনাচক্রে দেখা হওয়া এই দুই মানুষটির মধ্যে যে কখন সম্পর্কের পারদ বাড়তে থাকে, তাঁরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারে না। তবে পথ চলাটা কোথাও গিয়ে থমকে যায়। দুটি মানুষ একে অন্যকে কাছে না পেয়ে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে তোলে। দেখা হয় দুই পুলিশ অফিসারের সঙ্গে। আর এখানেই রয়েছে মলঙ্গ গল্পের টুইস্ট। 

অভিনয়ঃ আদিত্য রায় কাপুর এখানে নিজেকে এক ভিন্ন লুকে তুলে ধরলেন। তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে দর্শকদের। কোথাও গিয়ে যেন আদিত্যর চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায় ছবির চরিত্র। যার ফলে ছবিতে আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে অভিনয়ের ভাঁজ। পাশাপাশি দিশা পাটানি আশা অনুরূপ অভিনয় করলেন। তবে ছবিতে তিনি আরও বেশি প্রানবন্ত। দিশা একি ধাঁচের অভিনয় করলেও তা চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায়।  

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে সব থেকে আগে যা মাথায় আসে তা গল্পের প্লট। যা খুব চেনা। বেশ কয়েকটি ছবির গল্পের সংমিশ্রণেই যেন তৈরি করা হয়েছে এই ছবির গল্প। যদিও গল্পের উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে নজর কাড়ে। গল্পের মাঝে থাকা টুইস, গল্পের গতি সবেতেই মলঙ্গ দশে দশ। তবে সংলাপ খুব বেশি ধারালো না হওয়ায় মাঝে মধ্যেই তা মনোসংযোগ হারায়। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফিকে এক কথায় দশে দশ দেওয়া চলে। গানের দৃশ্য থেকে শুরু করে ছবিতে দৃশ্যগ্রহণ পর্দায় সর্বাদাই যেন এক ঝাঁচকচকে প্রভাব। যা দেখা মাত্রই চোখে ধরে। সেট বেশ সুন্দর। কস্টিউম, মেকআপ সবই খুব যত্নের সঙ্গে ছবিতে ফুঁটিয়ে তোলা হয়। যা ছবিটিকে আরও একটু বিশেষ করে তুলতে সাহায্য। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে মোহিত সুরির থেকে ঠিক যতটা আশা করে দর্শকেরা, ততটাই পরিপূর্ণ করে দিলেন তিনি। সাজিয়ে তুললেন মলঙ্গ ছবির প্রতিটি ফ্রেম। ছবির দুটি ধাপ খুব যত্নের সঙ্গে ব্যালান্স করেছেন তিনি। তবে কোথাও গিয়ে গল্প এক পেশে মনে হতে পারে। ছবিটিকে নিপাট একটি প্রেমের গল্প বলা চলে না। প্রাসঙ্গিক বহু ঘটনাকেই তুলে ধরা হয়েছে মলঙ্গ-এ।