সিরিজের নামঃ পাতাল লোক
পরিচালকঃ অবিনাশ অরুন ধারে এবং প্রসিত রায়
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ জয়দীপ আলাওয়াট, নীরজ কবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, গুল পনাগ
প্রযোজক সংস্থাঃ ক্লিন স্টেট ফিল্মস

অভিনয়ঃ নীরজ কবি (সঞ্জীব মিশ্র), গুল পনাগ (রেনু চৌধুরি), জয়দীপ আলাওয়াট (হাতিরাম চৌধুরি), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (বিশাল(হাতোড়া) তিয়াগি), স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (ডলি মেহরা)

গল্পঃ রহস্যে মোড়া গ্রিটি ক্রাইম থ্রিলার। তবে কি ক্রাইম থ্রিলার নিয়েই তৈরি গোটা চিত্রনাট্য নাকি আপনাকে রিয়্যালিটি চেক দেওয়াই 'পাতাল লোক'র একমাত্র লক্ষ্য। আমাদের ঘিরে রয়েছে তিনটি পৃথিবী। স্বর্গ লোক, ধরতি লোক এবং পাতাল লোক। লিটারেল অর্থ খোঁজার কোনও কারণ নেই। আমরা যে সকল মানুষের দ্বারা বেষ্টিত তাদের মধ্যেই লুকিয়ে এই তিনটি পৃথিবী। তিন পৃথিবীর একেবারে গভীরে গিয়ে দর্শকদের এক ভিন্ন পৃথিবীতে নিয়ে যাওয়াই কাজ পাতাল লোকের। কেবল তাই নয়, দেশে রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যামে যা যা ঘটছে তার ছোটখাটো হিন্ট দিয়ে সাজানো হয়েছে গল্প। 

চিত্রনাট্যঃ সঞ্জীব মিশ্র, চল্লিষোর্ধ্ব একজন সাংবাদিক। আমরা যারা মিডিয়ার মানুষ তারা এই চরিত্রের কথাগুলির সঙ্গে বেশ রিলেট করতে পারবেন। সংবাদমাধ্যমের খারাপ, ভাল, সত্য, মিথ্যে এবং স্বর্গ লোকের রাস্তা সবকিছুই বেরিয়ে আসবে সঞ্জীবের হাত ধরে। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সত্যতাকে তুলে ধরার কাজ হাতিরাম চৌধুরি এবং তাঁর স্ত্রী রেনু চোধুরির। ধরতি লোকের দৃশ্য ফুটে উঠছে হাতিরামের ব্যক্তিগত জীবনের মাধ্যামে। মার্ডারের হাত থেকে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া সঞ্জীবের কেস আসবে হাতিরামের কাছে। সেখানেই মিলে গেল স্বর্গ লোক এবং ধর্তি লোক। বাকি রইল পাতাল লোক। মারপিট দাঙ্গা, সিরিয়াল কিলিং, ধর্ষণ, কিডন্যাপ এগুলো তো দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। সেখানকার এক কোল্ড ব্লাডেড ক্রিমিনাল, অর্থাৎ ঠান্ডা মাথায় সাংঘাতিক কাজ করার ক্ষমতা রাখে যে ব্যক্তি সে হল বিশাল তিয়াগি। হাতোড়া তিয়াগি নামেই বেশি পরিচিত। পাতালক লোকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর হয়ে প্রবেশ করবে সে। ধীরে ধীরে মিলে গেল তিনটে পৃথিবী। সঞ্জীব-হাতিরাম-হতোড়া ইক্যোলস টু স্বর্গ-ধরতি-পাতাল। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ প্রথম সিজনে ন'টা এপিসোড। এপিসোড জুড়ে ডার্ক শেডসের ব্যবহার। যা অনুষ্কা শর্মার ক্লিন স্টেট ফিল্মসের ইউএসপি। এনএইচটেন হোক বা পরী, দুই ছবির মতই পাতালক লোকেও খেলা চলেছে ডার্ক শেডস নিয়ে। যা চিত্রনাট্যকে আরও বেশি প্রখর করে তুলেছে। 

সমালোচনাঃ পাতালক লোক নিয়ে জয়জয়কার শুরু গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দর্শকের মতে মিরজাপুর এবং সেক্রেড গেমসের থেকেও নাকি পাতালক লোক ডার্ক থ্রিলারটি বেশি পছন্দ হয়েছে। বাঙালিদের জন্য সুখবর। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় রয়েছেন ডলি মেহরার চরিত্রের। তবে তাঁর অভিনয় একেবারেই নজর কাড়ল না কারও। আপাতত সমালোচনা বলতে এটাই যা চোখে লাগল। আশা করা যাচ্ছে আগামী সিজনে স্বস্তিকার অভিনয় দক্ষতা দেখতে পাওয়া যাবে।

বিশ্লেষণঃ পাতাল লোক সিরিজটি কেন এত পছন্দ করছে সকলে। উত্তর লুকিয়ে প্রত্যেকের অভিনয়। চিত্রানাট্য যেহেতু অত্যন্ত পাওয়ারপ্যাকড তাই সেদিকে কোনও অভিযোগ নেই। যা দর্শককে মুগ্ধ করে চলেছে তা হল সকল অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিনয় দক্ষতা। পাতাল লোক আপনাকে আরও প্রশ্ন করতে, আরও গভীরে যেতে বাধ্য করবে। বিঞ্জওয়াচিং সঠিক অর্থ এবার হয়তো বুঝছে ভারতীয় দর্শক। রাতারাতি একটা সিজন শেষ করে নেওয়া, পরের সিজনের জন্য অধীর আগ্রহে ছটফট করা। এই তো সবে শুরু। পাতাল লোকে আরও গভীরে যাওয়া বাকি।