পরিচালকঃ অজয় বহেল। অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অক্ষয় খন্না, রিচা চাড্ডা, মীরা চোপড়া, রাহুল ভাট, কিশোর কদম, কৃতিকা দেশাই, শ্রীস্বরা 

গল্পঃ জুনিয়র কস্টিউম ডিজাইনার অঞ্জলি ডাংলে  পরিচালক রোহন খুরানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন ।জুনিয়র কস্টিউম ডিজাইনার অঞ্জলি ডাংলের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন মীরা চোপড়া এবং রোহন খুরানা  এর ভুমিকায় অভিনয় করেছেন  রাহুল ভাট।অভিযোগের  ভিত্তিতেই এগোতে থাকে  'সেকশন' ৩৭৫ ছবির গল্প । বিরোধী পক্ষের উকিল  তরুণ সালুজা  পুরো বিষয়টাকেই টেনে  অন্যদিকে নিয়ে যান। উকিল  তরুণ সালুজার ভুমিকায় অভিনয় করেছেন অক্ষয় খন্না। তার কথা অনুযায়ী  মনে হয় ঘটনাটা ধর্ষণের নয় , বরং দুজনের ইচ্ছেতেই যেন শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তারপরে তাঁদের  মধ্যে  মত-পার্থক্য তৈরি হয়। অভিযোগকারীর উকিল হিরাল মেহতা অবশ্য আদালতকে অনুরোধ করেন এই কেসের যে সমস্ত  তথ্যপ্রমাণ রয়েছে,তার যেন যথাযথ মুল্যায়ান করা হয়।  হিরাল মেহতার ভুমিকায় অভিনয় করেছেন রিচা চাড্ডা। 

 

অভিনয়ঃ ক্রিমিনাল ল্যইয়ার তরুন সালুজা ভুমিকায় অক্ষয় খন্না রীতিমত মনে দাগ কেটেছেন । আসলে তার কথা বলার কায়দা আর চোখের ভাষা ,তার পরিণত অভিনয়কেই তুলে ধরে।  পাবলিক প্রসিকিউটার হিরাল মেহেতা ভুমিকায় রিচা চাড্ডাও একটুকুও কম যায় না ।  অপরাধী অঞ্জলি দাঙ্গেল এর ভুমিকায় মীরা চোপড়ার অভিনয়ও বহুদিন মনে রয়ে  যাবে। ডিরেক্টর রোহণ খুরানাকে খুব সাবলীল অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন রাহুল ভাট। বিচারকের  ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করলেন  কৃতিকা দেশাই ।দেখে মনে হতেই পারে তিনি যেন সত্যিই এই ছবির  শ্যুটিং এর আগে কোর্টে প্র্যাকটিস করে এসেছেন।   

 চিত্রনাট্যঃ ধর্ষণ একটি অপরাধ। তাই সেখানে সমাজের যেকোনো স্তরের মানুষ এই অপরাধ করুক না কেন, তাদের সবার সমান শাস্তি প্রাপ্য। তবে যখন সেটা সেলুলয়েডে গল্পের প্রাসঙ্গিকতায় দেখানো হয়, তখন অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত সেটা যেন কোনও মানুষের ভাবাবেগকে আঘাত না করে ।  যে কোনো ছবিতেই  নকল ভাবে যে কোনও শারীরিক আঘাত বা ধর্ষণ এর কোন মুহূর্ত তৈরি  করলে সেটা যে সামাজিক সচেতনতা বাড়ায় সেটা নিঃসন্দেহে সত্যি। কিন্তু বারংবার সেই একই দৃশ্য দেখালে অনেক সময় তার খারাপ প্রভাবও পড়ে। সেটা 'সেকশন' ৩৭৫ ছবির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। 

সিনেমাটোগ্রাফিঃ  সুধীর কে চৌধুরির সিনেম্যাটোগ্রাফি গল্পেকে বাড়তি  মাইলেজ দিয়েছে। বিশেষ করে কখনও হঠাৎ মনে হতেই পারে যে আমরাই বোধহয় কোর্ট রুমের পিছনের আসন গুলিতে বসে আছি। আর এখানটাই তাঁর ক্যামেরার জাদু। কথোপকথনের সময় মিড শট গুলি খুব প্রানবন্ত করে তুলেছে  'সেকশন' ৩৭৫' ছবিকে। 

পরিচালনাঃ ছবির শুরু থেকে শেষ অবধি রুদ্ধশ্বাস ভাবে কাটবে । কোথাও গিয়ে মনে হবে সত্যিই আমাদের চেতনা ফিরছে বোধহয় । আর এখানেই জিতে গিয়েছেন পরিচালক অজয় বহেল । যে কোনও যৌন সর্ম্পক-এর ক্ষেত্রেই সম্মতি প্রয়োজন।  যদি তারা কখনো যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়  তার মানে এই নয় যে তারা পরের বার ও পরস্পরের সম্মতি ছাড়াই আবার  যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হবে। কারণ প্রতিবারই এই সম্পর্কের মধ্যে দুজনের ভাবাবেগ এবং ইচ্ছে লুকিয়ে থাকে। এই যুক্তিটাই  খুব সুন্দর ভাবে পরিচালক এই ছবিতে তুলে ধরেছেন। আর শেষটায় এটা বলাই যায় 'মি টু আন্দোলন ' সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিকে হয়ে গেলেও  'সেকশন' ৩৭৫' কিন্তু তাকে মনে রেখেই এগিয়েছে।