করোনা সংক্রমণে কাবু ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য। দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি। মারা গিয়েছেন ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। করোনা সংক্রমণের শিকার স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এই অবস্থায় লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার চিন্তা বাড়িয়ে দিল ব্রিটেনের এক হাইকোর্টের রায়। ভারতে প্রত্যপর্ণের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের হাইকোর্ট আর্জি জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কিংফিশার কর্তা বিজয় মালিয়া। সোমবার তাঁর সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করেন লন্ডনের রয়্যাল কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন আরউইন ও এলিজাবেথ লায়িং। ফলে এদেশে লিকার ব্যারনকে ফেরানোর ব্যাপারে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত সরকার।

 

 

কিংফিশার বিমানসংস্থার নামে বিজয় মালিয়া ভারতের ১৩টি ব্যাঙ্ক  থেকে প্রায় ৯০০০ কোটি টাকা  ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা না মিটিয়েই দেশ ছাড়েন মালিয়া। ৯,০০০ কোটি টাকা ঋণ প্রতারণা মামলায় নাম জড়ানোর ৬৪ বছরের মালিয়াকে দেশে ফেরাতে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত সরকার। ২০১৬ সালের মার্চে ব্রিটেনে পাড়ি জমান লিকার ব্যারন। যদিও পরের বছর এপ্রিলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: করোনা যুদ্ধের মাঝেই এল দুসংবাদ, বাবাকে হারালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য অনেকদিন ধরেই মামলা চলছে ব্রিটেনের আদালতে । ২০১৮ সালে সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট জাজ এম্মা আর্বুথনট রায় দিয়েছিলেন, ভারতের আদালতে তাঁর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন আছে ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিবকে মালিয়ার প্রত্যপর্ণের সুপারিশ করেছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন মালিয়া। সেই আর্জিও খারিজ হয়ে গিয়েছিল।

 তাঁকে দেশে ফেরাতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত সরকারও। কিন্তু একের পর এক আইনি মারপ্যাঁচে সেই ছক বানচাল করে চলেছেন লিকার ব্যরনও।কখনও তাঁর দাবি, তিনি টাকা ফিরিয়ে দিতে ইচ্ছুক কিন্তু ভারত সরকার সেই টাকা নিতে চাইছে না। আবার কখনও বলেছেন, তিনি এতটাই গরিব যে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা নেই।  কিন্তু এবার আর তাঁর বাঁচার উপায় নেই বলেই মনে করছে  বিশেষজ্ঞ মহল। তবে  তাঁকে কবে ভারতে ফেরানো হবে, সেই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব প্রীতি প্যাটেল।

আরও পড়ুন: সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, অভিমান নিয়েই এবার কালা দিবস পালন করবেন করোনা যুদ্ধের সৈনিকরা

সাজা এড়াতে গত চার বছর ধরে বিদেশেই রয়েছে বিজয় মালিয়া। এর মাঝেই গত ৩১ মার্চ ফের ৯ হাজার কোটি টাকা ফেরতের প্রসঙ্গটি তোলেন বিজয় মালিয়া। তিনি কেন্দ্রের সহযোগিতাও চেয়েছিলেন এই বিষয়ে।  ট্যুইট বার্তায় মালিয়া জানান, "ভারত লকডাউনে রয়েছে। আমি এই বিষয়টিকে সম্মান করি। সমস্ত উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত আমাদের কর্মীদের ফেরত পাঠাইনি। এজন্য টাকাও দিচ্ছি। সুতরাং সরকারের উচিত আমাদের সহায়তা করা।"  মালিয়ার দাবি, বেশ কয়েকবার ব্যাঙ্কের বকেয়া পাওনা তিনি ফেরত দিতে চেয়েছেন। তবে না ব্যাঙ্ক বা  ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, কেউই এই বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য় করেনি। এই  বিপর্যয়ের দিনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ হয়তো তার কথা শুনবেন বলে আশা করেছেন লিকার ব্যারন।

 

 

এদিকে বিজয় মালিয়া সহ ভারতের ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পালানো নীরব মোদী ও অন্যান্যদের ধরতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন তৈরি করেছে ভারত সরকার। অভিযুক্তদের দেশে ফেরান নিয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কথাবার্তাও চালাচ্ছে দেশের সরকার। ভারতের আদালতেও বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। মালিয়াকে দেশে ফেরাতে এখনো তৎপরতা জারি রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার।