বাইরে থেকে রং করা হচ্ছে, অথছ কংক্রিটের কাঠামো যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেদিকে নজর দেয়নি রেল। বর্ধমান স্টেশনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে এমনই অভিযোগ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তাঁর অভিযোগ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বর্ধমান স্টেশন ভবনের একাংশ ভেঙে পড়েছে।

 এ দিন রাত ৮.১০ নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বর্ধমান স্টেশনের দোতলা মূল ভবনের একটি বড় অংশ। যে অংশটি ভেঙে পড়েছে, সেটির নীচেই ছিল অনুসন্ধান কেন্দ্র। মূল প্রবেশদ্বার সংলগ্ন গাড়ি বারান্দার একাংশই ভেঙে পড়ে। ব্যস্ত সময়ে স্টেশনে বহু যাত্রী থাকায় প্রথমে অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায় যে ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনও যাত্রী সেভাবে চাপা পড়েননি। 

স্বপনবাবুও স্বীকার করে নেন, ভাগ্যের জোরেই এ দিন বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। এ দিন দুর্ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বিধায়ক এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। সেখানে গিয়েই রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বর্ধমানের মতো ব্যস্ত স্টেশনে এই দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হতে পারতেন। কিন্তু তা এড়ানো গিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই যে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এটা স্পষ্ট। বাইরে থেকে রং করা হলেও  ভিতরটা যে নষ্ট হয়ে গিয়েছে সেদিকে নজর দেওয়া হয়নি। আসলে কেন্দ্রীয় সরকারও তো এরকমই। বাইরেটা চাকচিক্য, ভিতর থেকে ফোঁপরা।' মন্ত্রী জানান, উদ্ধারকাজের জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন- ... হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মূল ভবন, বর্ধমান স্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

আরও পড়ুন- তাসের ঘরের মতো ভাঙল বর্ধমান স্টেশন ভবন, আতঙ্কে দিশেহারা যাত্রীরা

স্বপনবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেল মন্ত্রী ছিলেন, পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো স্টেশনগুলির রক্ষণাবেক্ষণের উপর জোর দিয়েছিলেন। বাংলা তো বটেই, গোটা দেশের মানুষ তাতে উপকৃত হয়েছিলেন বলে দাবি মন্ত্রীর। অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'মমতাদি যা করে গিয়েছিলেন সেটাও তো এরা রাখতে পারল না।'

একা স্বপনবাবু নন, এ দিনের দুর্ঘটনার পর রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী এবং কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীও। তাঁর অভিযোগ, ভাড়া বাড়ানো হলেও যাত্রী নিরাপত্তায় আপোস করছে রেল। অপারেটিং রেশিও বেড়ে যাওয়াতেই যাত্রী নিরাপত্তায় যথাযথ অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ বহরমপুরের সাংসদের। 

অন্যদিকে কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনই বলতে নারাজ রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে নিত্যযাত্রীদেরও অভিযোগ, একশো বছরের পুরনো স্টেশনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ঠিক মতো হয় না। সম্প্রতি ওই স্টেশনে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পাকাপাকিভাবে না সারিয়ে স্টেশনেও উপর উপর ছোটখাটো মেরামতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। যার ফলে এ দিনের ঘটনা ঘটেছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।