দেশে ক্রমেই সংকটজনক হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। কিন্তু এখনও আবিষ্কার হয়নি এই রোগের ওষুধ। ফলে সংক্রমণ আটকাতে একমাত্র পথ দূরত্ব বজায় রাখা। তাই এদেশে করোনাকে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এই লকডাউনের পরিস্থিতিতে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে মানুষ চলাচলের মাধ্যমে যাতে রোগ না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য সীমানা বন্ধ করে রেখেছে অধিকাংশ রাজ্য। আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েছেন দিনমজুররা।

রুটি-রুজির টানে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যান বহু শ্রমিক। তেমনি সিকিমে কাজ করতে আসেন পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে বহু দিনমজুর। কেউ কেউ আবার এসেছেন উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র থেকেও। হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারেননি অধিকাংশই। হাতের সীমিত পুঁজিও শেষ। এই অবস্থায় সিকিমের সীমানায় আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন দেশের প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। সিকিমের ছেলে বাইচুং গ্যাংটকের কাছে লুমসে-তে নিজের নির্মিয়মাণ বাড়ির দরজা খুলে দিলেন এই অসহায় মানুষগুলির জন্য।

করোনার থাবায় বন্ধ হয়েছে উৎপাদন, বিশ্ব জুড়ে চরমে এবার 'কন্ডোম' সংকট

স্বেচ্ছায় আইসোলেশন গেলেন থাইল্যান্ডেন রাজা, সঙ্গী হলেন ২০ জন সুন্দরী

গোষ্ঠী সংক্রমণ থেকে আর রক্ষে পেল না দিল্লি, হাসপাতালে ভর্তি তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়া ৩০০ জন

বর্তমানে শিলিগুড়িতে গৃহবন্দি রয়েছেন পাহাড়ি বিছে হিসেবে ভারতীয় ফুটবল দুনিয়ায় জনপ্রিয় বাইচুং ভুটিয়া। সেখানেই সিমিকে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের খবর তাঁর কাছে পৌঁছতেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন তিনি। গ্যাংটকে ৫ তলা নির্মিয়মাণ ওই বাড়িতে শতাধিক শ্রমিক থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাইচুং। সেখানে তাঁদের মেডিক্যাল সাপোর্টেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। লকডাউন অবস্থায় নিজের বাড়ি ফেরা না পর্যন্ত শ্রমিকরা তাঁর বাড়িতে থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। 

শুধু আশ্রয় দেওয়াই নয়, সমস্যায় পড়া শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন বাইচুং। বাইচুং-এর ক্লাব ইউনাইটেড সিকিমের কর্তারা প্রাক্তন ফুটবলারের কথায় এই ব্যবস্থা করেছেন। আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য কেউ সাহায্যের হাত বাড়াতে চাইলে সিকিম ইউনাইটেডের এক কর্তার নম্বরও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন পাহাড়ি বিছে। পাশাপাশি বাইচুং চিন্তিত শিলিগুড়িতে আটকে পড়া সিকিমের শ্রমিকদের নিয়েও। তাঁদের কীভাবে রাজ্যে ফেরান যায় সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছেন বলেও জানিয়েছেন প্রাক্তন তারকা ফুটবলার।