মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ব্যক্তিগত বাসভবন মাতোশ্রী। মঙ্গলবার বালাসাহেবের স্মৃতি বিজড়িত এই ভবনের ঠিল ছোড়া দূরত্বে দোকান দেওয়া এক চা বিক্রেতার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এল। আর তারপরেই ওই এলাকায় ছড়ালো তীব্র আতঙ্ক। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে মাতোশ্রী-র সুরক্ষায় মোতায়েন থাকা প্রায় ১৭০ জন পুলিশ ও এসআরপিএফ সদস্যকে ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। এর পাশাপাশি পুরো এলাকা সিল করে স্যানিটাইজ বা শোধন করার কাজ চলছে।

জানা গিয়েছে ওই চাওয়ালা পূর্ব বান্দ্রায় ঠাকরেদের বাসভবন মাতোশ্রী থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে বসেই চা বিক্রি করতেন। সোমবারই তাঁর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে দেওয়া হয়েছিল। এদিন সেই পরীক্ষার ফল ইতিবাচক পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, মাতোশ্রী-র নিরাপত্তারক্ষীরা তো বটেই, সেই সঙ্গে অনেক সাপোর্ট স্টাফই প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে ওই চায়ের দোকানে চা খেতে যেতেন। আর তাতেই বিপদ আরও বেড়েছে।

এদিন রিপোর্ট পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি মাতোশ্রীর সমস্ত গাড়ির চালক, টেলিফোন অপারেটর এবং ঠাকরে পরিবারের সুরক্ষার অধীনে নিযুক্ত প্রায় ১৭০ জন নিরাপত্তা কর্মীদের বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাদের সকলের লালারসের নমুনা পাঠানো হয়েছে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য। তাহলে কী ঠাকরে পরিবারেরও করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে?

করোনা রোধে গোটা ভারতে 'ভিলওয়ারা মডেল' চাইছে মোদী সরকার, কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা

কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় জব্দ হতে পারে করোনাভাইরাস, কী বলছেন চিকিৎসকরা

১৪ এপ্রিলের পর জোড়া কৌশলে চলবে করোনা-যুদ্ধ, জেনে নিন মোদী সরকারের পরিকল্পনা

শিবসেনার এক পদস্থ নেতা অবশ্য দাবি করেছেন, ঠাকরে পরিবারের কোনও সদস্যেরই করোনাভাইরাস পরীক্ষার পরামর্শ দেননি চিকিৎসকরা। গত দুই সপ্তাহ ধরেই এই পরিবারের সদস্যরা স্ব-বিচ্ছিন্নতায় রয়েছেন। তবে মুখ্য়মন্ত্ররী উদ্ধব ঠাকরে নিয়মিত এই সাপোর্ট স্টাফদের সংস্পর্শে আসেন। এই কর্মীরা প্রায় সকলেই তাঁর কাছে প্রতিদিন রিপোর্ট করেন। তাই তাঁদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাটা দরকারি।

মঙ্গলবার, মহারাষ্ট্রে আরও ১৫০ জন নতুন কোভিড-১৯ রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এরমধ্যে শুধু মুম্বই শহর থেকেই আছেন ১০০ জন। সসব মিলিয়ে এই রাজ্যের মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১,০১0 হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। মুম্বই শহরে এদিন পাঁচজনের কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু-ও হয়েছে, এতে করে শুধু মুম্বইতেই মৃত্যু হল ৪০ জনের। দেশের মধ্যে করোনার দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এই রাজ্যেই।