শুরুটা হয়েছিল একেবারে দক্ষিণের রাজ্য কেরল থেকে। তারপর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানার মতো উত্তরের রাজ্যগুলি, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থানে-এর মতো পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখেও আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। তারপর সংক্রমণ এগিয়ে এসেছিল পূর্ব ভারতে, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা হয়ে করোনাভাইরাস এসেছিল পশ্চিমবঙ্গে। বাদ ছিল উত্তর-পূর্ব ভারত। মঙ্গলবার সকালে আরও ভয় বাড়িয়ে সেখানেও পা রাখল করোনাভাইরাস।

মণিপুরের এক ২৩ বছর বয়সী যুবতীর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। তিনি সদ্য ব্রিটেল থেকে ফিরেছিলেন। মণিপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ওই যুবতীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। সেইসঙ্গে সংক্রমণ যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে তারজন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কী কী বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে সেই নিয়ে শিগগিরই আলোচনায় বসবেন প্রশাসনিক কর্তারা।

এতদিন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের ভারতের অন্যান্য অংশে নক্কারজনক বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে। চিনাদের মতো মঙ্গোলিয় মুখের ধাঁচের জন্য তাদের করোনাভাইরাস বলে ডাকা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িভাড়া পেতে সমস্যা হয়েছে। এর জন্য পঞ্জাবে থাকা একদল উত্তর-পূর্বের ছাত্রাছাত্রী ফেসবুকে একটি ভিডিও-ও বানিয়ে, তাদের প্রতি এই বিদ্বেষ বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলেন। অথচ বাস্তব হল উত্তর পূর্ব ভারতে এতদিন পর্যন্ত একজনও করোনাভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি। এদিনের পর করোনাভাইরাস ভূভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে গেল বলা চলে।