করোনা আক্রান্তদের জন্য এক দারুণ স্বস্তির খবর। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য আর কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট বাধ্যতামূলক নয়। শনিবার, কোভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করার জাতীয় নীতিতে কিছু রদবদল ঘটানো হল। কেন্দ্রের দাবি এই নীতিটি আরও বেশি 'রোগী কেন্দ্রিক' অর্থাৎ যাতে করে রোগীদের সুবিধা হয়, সেই লক্ষ্যেই সংশোধন করা হয়েছে। নতুন গৃহীত পদক্ষেপগুলি কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা যাতে অবিলম্বে এবং কার্যকরভাবে শুরু করা যায়, এবং আরও বেশি রোগী যাতে চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করবে, এমনটাই সরকারের দাবি।

ঠিক কী কী রদবদল ঘটল কেন্দ্রের গৃহীত নতুন নীতিতে? আসুন দেখে নেওয়া যাক -

১. আগেই বলা হয়েছে, রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসা বাধ্যতামূলক নয়। যে কোনও সন্দেহভাজন রোগীকেই প্রয়োজনীয়তা বুঝে আইসিইউ, এইচডিইউ বা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে। কারণ পরীক্ষার ফল আসতে কিছুটা সময় লাগে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় ফল ভুলও আসছে।

২. কোনও অবস্থাতেই কোনও রোগীকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া থেকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। এমনকী রোগী অন্য কোনও শহরের বাসিন্দা হলেও তাঁকে অক্সিজেন বা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মতো চিকিৎসা সহায়তা দিতেই হবে।

৩. হাসপাতাল যে শহরের অবস্থিত, তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি - এই যুক্তিতে কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে অস্বীকার করা যাবে না।

৪. হাসপাতালে ভর্তি করার একমাত্র শর্ত হল রোগীর প্রয়োজনীয়তা। প্রয়োজনের ভিত্তিতেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। যেসব ব্যক্তির সত্যিকারের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই, তারা যাতে অনাবশ্যক হাসপাতালের শয্যা দখল করে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতাল থেকে কোনও রোগীকে ছাড়ার ক্ষেত্রে, কঠোরভাবে, কেন্দ্রের জারি করা হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেওয়ার সংশোধিত নীতি মানতে হবে।

আরও পড়ন - জলে গুলে খেলেই সংক্রমণ-মুক্ত - করোনা-যুদ্ধের অস্ত্র দিল DRDO, অনুমোদন DGCI-এর

আরও পড়ুন - মুকুল রায়কে নিয়ে জল্পনার অবসান - এরপর কোন পথে, নিজেই জানালেন সেই কথা

আরও পড়ুন - 'দলের ক্ষতি করেননি' - তৃণমূলে টিকেই গেলেন দিব্যেন্দু অধিকারী, বহিষ্কৃত প্রাক্তন বিধায়ক

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে তিনদিনের মধ্যে উপরোক্ত নির্দেশাবলী কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য অবিলম্বে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্য সচিবদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও বিজ্ঞপ্তি জারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপর এই বিষয়ে একটি সার্বজনীন নীতি গৃহীত হবে। তা না আসা অবধি, এই সংশোধিত নীতিকেই কার্যকর করতে হবে।