রবিবার থেকে বুধবার -১১ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল চার দিনের জন্য দেশে শুরু হয়েছে টিকা উৎসব। টিকা প্রদানের এই কর্মযজ্ঞের প্রথম দিন যেথেষ্ট সাড়া পড়েছে গোটা দেশে। এদিন রাত ৮টা পর্যন্ত ২৭ লক্ষেরও বেশি মানুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। তেমনই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এরই সঙ্গে বলা হয়েছে রবিবার সাধারণত টিকা দেওয়ার সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম থাকে। এদিন সন্ধ্য পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে। 

দেশে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ। শুরু হয়েছে মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে। এপ্রিল মাসের প্রথম থেকেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা রীতিমত উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। গত সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের মাত্রা ছাপিয়ে গেছে প্রথম দফার দৈনিক পরিসংখ্যণকেও। রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ছিল দেড় লক্ষেরও বেশি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এদিন সন্ধ্যবেলা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের আক্রান্তে সংখ্যা ৬৩ হাজারের বেশি। আবারও লকডাউনের পথে হাঁটতে পারে মহারাষ্ট্র সরকার। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। 

করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ রুখতেই গত পলয়া জানুয়ারি থেকে টিকাকরণ কর্মসূচি চলছে দেশে। ইতিমধ্যেই টিকা প্রদানের তৃতীয় দফার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু তারই মধ্যে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ায় গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই টিকাকর্মসূচির ওপর জোর দিয়ে টিকা উৎসবের ডাক দেন তিনি। রবিবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছিল ১০ কোটিরও বেশি মানুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। চার দিনে দ্রুততার সঙ্গে বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে দেশের করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে রেমডেসিভির ইনজেকশন ও ওষুধ বিদেশে রফতালির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ওষুধটির কালোবাজারি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান হয়েছে।