এই প্রথম পতন হল ভারতের এক করোনা-ফাইটার বা করোনা-যোদ্ধার। চার দিন আগেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কোভিড -১৯ পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছিল ডাক্তার শত্রুঘ্ন পঞ্জওয়ানি-র। এদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এই ৬২ বছরের জেনারেল ফিজিশিয়ান। ভারতে নভেল করোনাভাইরাসজনিত কারণে এই প্রথম কোনও চিকিৎসকের মৃত্যু হল।

ইন্দোরের অরবিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। এদিন সকালে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার স্ত্রী এবং তিন ছেলের সকলে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। লকডাউনের জেরে সেখান থেকে ডাক্তার পঞ্জওয়ানি-কে শেষ দেখা দেখতে আসাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।


৭ ডাক্তার ও ৩ নার্সের বিরুদ্ধে এফআইআর, তিন বছরের জেল হতে পারে এই করোনা-যোদ্ধাদের

 

২০ জনের জন্য একটি বালতি ও একটি সাবান, করোনাভাইরাস না খিদে - কে ডেকে আনবে মৃত্যু

 

মায়ের মৃত্যুতেও কর্তব্যে স্থির, শেষ দেখা না দেখে অভাবীদের খাওয়াতে ছুটলেন এই লকডাউন হিরো

তাঁর এক সহকর্মী ডাক্তার ডি নটবর জানিয়েছেন, ডাক্তার পঞ্জওয়ানি সরাসরি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জড়িত ছিলেন না। তবে তাঁর চেম্বারে আসা রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় বস্তির নিম্নবিত্ত মানুষ। রোগীদের সামর্থ্য না তাকলে তিনি বিনা পয়সাতেই চিকিৎসা করতেন। সন্দেহ করা হচ্ছে ওই রোগীদের মধ্যেই কারোর থেকে এই জনদরদী ডাক্তারের দেহে বাসা বেধেছিল মারণ করোনাভাইরাস। তাই তাঁর কোভিড-১৯ রোগ ধরা পড়ার পরই ওই বস্তিতে করোনা আক্রান্তের সন্ধান করা শুরু হয়েছে।

ইন্দোরে এই পর্যন্ত এই মহামারীর ফলে ১৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এবং ডাক্তার পঞ্জওয়ানি-কে নিয়ে ১৬ জনের মৃত্যুর নথিভুক্ত করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে আপাতত ইন্দোর, ভোপাল এবং উজ্জইন - এই তিন শহর করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং এই শহরগুলি থেকে অন্যত্র যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য এই তিনতি শহরই সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।