১৪ এপ্রিল অর্থাৎ দেশে ২১ দিনের লকডাউনের শেষ দিন, সকাল দশটায় ফের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক টুইট বার্তায় এই কথা জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা দেশেই লকডাউন-এর মেয়াদ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করবেন। সেই সঙ্গে আশা করা হচ্ছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে কীভাবে সচল রাখা যায়, তার জন্যও কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করতে পারেন।

গত সপ্তাহেই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সবকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্স-এ মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে সকলেই একমত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী 'সামাজিক দূরত্ব'-এর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বলেছিলেন, কোভিড-১৯'এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণের এটিই একমাত্র উপায়। সেইসঙ্গে জানান, আগামী কয়েক তিন-চার সপ্তাহ এই ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য টিম ওয়ার্ক-এর উপর জোর দেন।

বৈঠকের পরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভয়াবহ সংক্রমণের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ও রাজ্যে লকডাউনের সীমমা বাড়ানোর সময় জানান, প্রধানমন্ত্রীও এরকমটাই নির্দেশ দিয়েছেন।

21 দিনের লকডাউনে কিন্তু দেশের অনেক ক্ষতিও হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের মুথ্যমন্ত্রীরাও, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে এর উল্লেখ করেছিলেন। গত মাসে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রের। তাই এবার, কারখানা ও পণ্য পরিবহনে সরকার ছাড় দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সেইসঙ্গে কৃষিক্ষেত্রেও রবিশস্য তোলার অনুমতি দেওয়া হবে বলেই খবর। এমনকী লাল এবং কমলা জোনেও কৃষকদের কাছ থেকে নিয়ে জনসাধারণের কাছে শাকসবজি পৌঁচে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। মৎসশিল্পের সঙ্গে জড়িতরাও ছাড় পেতে পারেন। লকডাউনের সময় শ্রমিকরা কারখানাতেই রেখে দিয়ে, এবং বিধিবদ্ধ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করানোর শর্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। শ্রমিকরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে না পারলেও রোজগারের সুযোগ পপেতে পারেন।