করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ভারতে ২১ দিনের লকডাউন জারি করা হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও এই মারাত্মক সংক্রামক ব্যধীকে রোখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গত ৪৮ ঘন্টায় যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে তাতে আমেরিকা-ইতালির মতো অবস্থা না হয়, সেই ভয় পাচ্ছেন ভারতীয়রা। তবে এই উদ্বেগ ও আশঙ্কার মধ্যেই কিছুটা হলেও আশার কথা শোনালেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোবায়োলজিস্ট রূপ লাল।

তাঁর অধীনে ১৬ জন গবেষক সার্স-কোভ-২ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁদের গবেষণায় জানা গিয়েছে ভারতে এই নতুন করোনাভাইরাসের যে ডিএনএ স্ট্রেইন পাওয়া গিয়েছে সেটি ইতালি, স্পেন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধ্বংসলীলা চালানো স্ট্রেইনটির মতো মারাত্মক নয়। বরং ভারতে পাওয়া সার্স-কোভ -২ ভাইরাসগুলির গভীর জিনগত বিশ্লেষণে শীর্ষ দেখা যাচ্ছে এই স্ট্রেইনের সঙ্গে উহানে পাওয়া করোনাভাইরাসের স্ট্রেইন-এর মিল রয়েছে।

তাঁদের গবেষণায় শুধু ভারত নয়, ইতালি, স্পেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, নেপাল-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে নেওয়া ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তারপর তাঁরা জানিয়েছেন, ভাইরাস খুব দ্রুত নিজেকে পরিবর্তন করছে। বলা যেতে পারে ভাইরাসটি দ্রুত তার কাঠামো পরিবর্তন করছে। তাই এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস রোধের জন্য ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরি করা কঠিন হবে। কারণ একটি কাঠামোর জন্য টিকা তৈরি করতে করতে দেখা যাবে ভাইরাসটি আরও মজবুত কোনও কাঠামো গড়ে ফেলেছে, যা ওই ওষুধে ভাঙা যাচ্ছে না। আবার বিভিন্ন দেশ ও আ্ঞ্চল বিশেষে যেভাবে সার্স-কোভ-২ বা কোভিড-১৯'এর ভাইরাসের ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রেইন পাওয়া যাচ্ছে তাতে একটি দেশে তৈরি ভ্যাকসিন যে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও কাজ করবে, তা বলা যাবে না।

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ওঁরা, সাফাইকর্মীদের পুষ্পবৃষ্টি করে শ্রদ্ধা জানালো পঞ্জাব

দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু ধর্মের ওম মন্ত্র জপছেন স্পেনের চিকিৎসকরা, ভাইরাল ভিডিও

মারণ করোনা বাসা বাঁধেনি তো শরীরে, নিশ্চিত হতে এবার ঘরে বসেই করা যাবে পরীক্ষা

চেনা পথে ব্যর্থ, করোনা ধরতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আমদানী করছেন ভারতীয় গবেষকরা

বিশ্বজুড়েই প্রশ্ন উঠেছে, কেন চিন বা ভারত-এর থেকে স্পেন, ইতালি এবং এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও মানুষের মৃত্যু হচ্ছে কোভিড-১৯ রোগে। এই বিষয়ে রূপ লাল-এর গবেষক দলের অন্যতম বিজ্ঞানী বিপিন গুপ্ত জানিয়েছেন, তাঁদের গবেষণায় জানা গিয়েছে, নতুন করোনাভাইরাস প্রথমে ইউরোপে এবং তারপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজেকে দ্রুত বদলে ফেলেছে এবং আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ছয়টি বিচ্ছিন্ন করা ভাইরাস জিনোম, যেগুলি প্রধাণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া গিয়েছে, তারা অ্যামিনো অ্যাসিডকে আশ্রয় করে। তাদের প্রোটিন অংশে অ্যামিনো অ্যাসিডের বিকল্প পাওয়া গিয়েছে। তাই প্রোটিনের কাঠামো ভেঙে দিয়েও তাদের জব্দ করা যাচ্ছে না, যা প্রাণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

বস্তুত, মার্কিন বিজ্ঞানীদের মতে, সেই দেশের অন্তত আটটি বিভিন্ন নভেল করোনাভাইরাস-এর স্ট্রেইন রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের আক্রমণের ধরণ আলাদা।  রূপ লালের মতে যদি কোনও মানুষের শরীরে প্রবেশের পরে ভাইরাসটি দ্রুত পরিবর্তিত হয় তবে এর মোকাবিলা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এটাই হচ্ছে আমেরিকা বা ইউরোপের ক্ষেত্রে। ভারতের ক্ষেত্রে একেবারে নিশ্চিত করে না বলে গেলেও এখনও অবধি যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে ভাইরাসটিকে এখনও পর্যন্ত এমন আচরণ করতে দেখা যায়নি।