কেশপুরে ভয়ঙ্কর আক্রমণের মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী প্রীতিশরঞ্জন কোনার। গাড়ি গিরে ধরে বাঁশ, লোহার রড, ইট, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গাড়ির উপর নির্মম আক্রমণ করা হল। কোনও রকমে প্রাণ রক্ষা করে সেই এলাকা থেকে পালাতে পেরেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, তা জানা যায়নি। শুধু বিজেপি প্রার্থীকেই নন, নিশানা করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমকেও। রীতিমতো প্রাণের হুমকি দেওযা হয় সংবাদমাধ্যমকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।

এদিন, কেশপুরের গুণহারা গ্রামের বুথে ব্যাপক রিগিং ও বুথ জ্যাম করার অভিযোগ পেয়ে ওই এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। গ্রামে ঢোকার মুখেই তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে এতদল দুষ্কৃতী। ধারাল অস্ত্র, বাঁশ, ইট, লোহার রড দিয়ে তাঁর গাড়িতে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। সঙ্গে থাকা সংবাদমাধ্যমের গাড়িগুলিও ছাড় পায়নি। তবে তারা কোনওরকমে গাড়ি ঘুরিয়ে পালাতে পারলেও, প্রীতিশরঞ্জন কুয়ারের গাড়িটি ওইখানে আটকে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন নারী-পুরুষ তার গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালায়।

আরও পড়ুন - নিশানায় কমিশন থেকে অমিত শাহ - মুক্তি পেয়েই হুঙ্কার ছাড়লেন মমতা, অট্টহাসি শুভেন্দুর

আরও পড়ুন - নন্দীগ্রামে মমতা কি হারের ভয় পাচ্ছেন - ভরসার তালিকায় কেন এখন রাজ্যপাল, আদালত আর সুদীপ জৈন

আরও পড়ুন - শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে 'পাকিস্তানি'দের হামলা - ইটের ঘায়ে ভাঙল কাচ, অক্ষত বিজেপি নেতা

এই হামলার সময়ে ওই এলাকায় কোনও রাজ্য পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যের দেখা মেলেনি। বিনা বাধায় মারাত্বক হামলা চালানো হয়। এই হামলায় বিজেপি প্রার্থী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি আপাতত কোথায় রয়েছেন, তা জানা যায়নি। বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি একটি মাটির বাড়িতে ধাক্কা মারে। তারপর সেখান থেকে তিনি প্রাণভয়ে পালিয়েছেন, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তবে, ইতিমধ্যেই  ওই এলাকায় এসে পৌছেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। প্রীতিশরঞ্জন কুয়ার ও দুষ্কৃতীদের সন্ধানে গ্রামে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমনটাই সূত্রের খবর। এই বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে এই তৃণমূল কর্মীকে পার্টি অফিস থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ৩০-৩৫ জন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী তাকে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। খুনের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপর ভোটের দিনও ভয়ঙ্কর হিংসার সাক্ষি থাকল কেশপুর।

এদিকে সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দিন ৪ জেলা থেকেই এইরকম হিংসার বহু খবর আসছে।