প্রথমে যুবরাজ চার্লস, এবার সরাসরি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকেই কাবু করল করোনাভাইরাস। শুক্রবার, তাঁর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ সরকার। জানা গিয়েছে, গত দুদিন ধরেই তাঁরর শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হালকা লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তবে প্রিন্স চার্লস-এর মতোই তিনিও ওই হাল্কা লক্ষণ ছাড়া সুস্থই আছেন। কোভিড-১৯'এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করতেই গত ২৪ ঘন্টা ধরে স্ববিচ্ছিন্নতাতেই আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

এদিন বরিস জনসন নিজেই টুইট করে তাঁর আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। এতদিন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। তালিকায় আছেন স্পেন-কানাডার প্রদানমন্ত্রীদের স্ত্রীরা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এর আগে ব্রিটিষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে বরিস জনসনই প্রথম কোনও দেশের শীর্ষনেতা, যাঁর দেহে এই মারাত্মক সংক্রামক রোগ ধরা পড়ল। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থেকে শুরু করে ব্রাজিলিয় প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো, অনেকেই সন্দেহের তালিকায় এসেছেন, কিন্তু পরীক্ষার ফল নেতিবাচক এসেছে।

 

একদিন এক ভিডিও বার্তা পোস্ট করে বরিস তাঁর অসুস্থতার কথা জানান।  তবে তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতা সেভাবে না থাকায় দেশকে নেতৃত্ব দিতে তাঁর অসুবিধা হবে না। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বাড়িতে স্ববিচ্ছিন্নতায়  থেকেই তিনি তাঁর দলের সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন। একদিন আগেই ভারতের ব্রিটেনেও জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার কর্মীদের দেশজুড়ে করতালি দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। জনসন বলেছেন, ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা, পুলিশ, শিক্ষক, সমাজকর্মী-সব সমস্ত জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের তিনি তাঁদের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান।

এদিন তিনি নিজের উদাহরণ দিয়েই দেশবাসীকে ফের একবার বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এইভাবেই সকলে মিলে করোনাভাইরাস-কে পরাজিত করা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার স্কটল্যান্ডের ক্লেরেন্স হাউস থেকে জানানো হয়েছিল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস-ও কোভিড-১৯ ব্যধীতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনিও মোটের উপর সুস্থই আছেন। তাঁর স্ত্রী ক্যামিলা পার্কার অবশ্য আক্রান্ত নন।