করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেল না ব্রিটিশ রাজ পরিবার-ও। সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস-এর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার ফলাফল ইতিবাচক এসেছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকেও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত স্পেন বা কানাডার রাষ্ট্রপ্রধানদের স্ত্রী বা অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলেও এই প্রথম বিশ্বের কোনও রাজ পরিবারে থাবা বসালো করোনা।

৭১ বছরের প্রিন্স চার্লস এখন ডাচেস অব কর্নওয়াল, ক্যামিলা পার্কার বাওলস-এর সঙ্গে স্কটল্যান্ডে ক্লেরেন্স হাউসে স্ব-বিচ্ছিন্নতায় আছেন। ক্লেরেন্স হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রিন্স চার্লস-এর ঘুসঘুসে কাশি হচ্ছে। সেই সঙ্গে হালকা জ্বর রয়েছে। এইসব সামান্য লক্ষণ ছাড়া তিনি বেশ সুস্বই আছেন। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি বাড়ি থেকেই কাজকর্ম সামলাচ্ছেন।

ওই মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন ডাচেস অব কর্নওয়াল, ক্যামিলা-রও করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছিল, তবে তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।
ব্রিটিশ সরকার এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে প্রিন্স এবং ডাচেস এখন স্কটল্যান্ডের বাড়িতে স্ব-বিচ্ছিন্নতায় রয়েছেন। অ্যাবারডিনশায়ারে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার কর্মীরাই প্রিন্স ও ডাচেস-এর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেন।

ঠিক কোথা থেকে প্রিন্স চার্লস কোভিড -১৯'এ আক্রান্ত হয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। ক্লেরেন্স হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, প্রিন্স চার্লস-কে প্রচুর মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতেও তিনি বহুমানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন। কাজেই কার থেকে তাঁর দেহে সংক্রমণ ছড়ালো তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তবে সপ্তাহ দুয়েক আগে, প্রিন্স চার্লস-এর করমর্দনের বদলে নমস্কার করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। লন্ডন প্যালেডিয়াম-এ তিনি বার্ষিক প্রিন্স ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্টানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তিনি করমর্দন এড়িয়ে নমস্কার করেছিলেন।