উত্তর প্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ। আম আদমি পার্টির নেতা ও বিধায়ক রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধে এইআইআর দায়ের করা হল। উত্তর প্রদেশ সরকারের এক পরামর্শদাতা মৃত্যুঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধে সরকার ও পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি যিনি রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি বলেছেন, উত্তর প্রদেশ সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা করেছেন রাঘব। চাড্ডার মন্তব্য শুধু অনিচ্ছাকৃত ভুলও নয়। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও তা  বিপজ্জনক। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারীর আকার নিয়েছে। দেশ এখন খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। 

 

 

 

গতকালই উত্তর দিল্লির আনন্দ বিহার বাসস্ট্যান্ডে প্রায় লক্ষাধিক অভিবাসী মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কেউ ছিলেন শ্রমিক। তো কেউ পড়ুয়া। উদ্দেশ্য একটাই যে করেই হোক নিজের বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া। কিন্তু এক জায়গায় প্রচুর মানুষ জড়ো হওয়ায় মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। যা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে আরও ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে। 

এই পরিস্থিতিতে গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগী আদিত্যনাথকে রীতিমত নিশানা করেছিলেন দিল্লির সদ্যোনির্বাচিত আম আদমি পার্টি বিধায়ক রাঘব চাড্ডা। তিনি বলেছিলেন দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশগামী অভিবাসীদের মারধর করছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। তিনি আরও বলেছেন, যাঁরা দিল্লি থেকে চলে যাচ্ছেন তাদের আর দিল্লিতে ফেরত আসতে দেওয়া হবে না। কঠিন সময় আর সমস্যা না বাড়ানোই ভালো। 

আরও পড়ুনঃ রেহাই নেই দুধের শিশুরও, কর্নাটকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১০ মাসের শিশুও

আরও পড়ুনঃ করোনার কোপে ভারত, দেশ জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০২৯

দিল্লিতে প্রচুর অভিবাসী শ্রমিকের বাস। লকডাউনের কথা ঘোষণার পরই তাঁদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। কিছুটা দিশেহারা হয়েও বাড়ি ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তাঁরা। দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধেও অভিবাসী শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, দিল্লির আপ সরকার রীতিমত উৎসহ দিচ্ছে শ্রমিকদের দিল্লি ছাড়়া হতে। উত্তর প্রদেশ ও বিহারের প্রচুর মানুষ রয়েছে যারা পেটের টানেই চলে এসেছিলেন দিল্লিতে। কিন্তু লকডাউনের কথা ঘোষণা হওয়ার পরই আলো ও জলের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে অভিবাসী শ্রমিক বস্তি বা কলোনিতে। এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তাঁরা। উত্তর প্রদেশর সরকারের অভিযোগ অভিবাসী শ্রমিকদের দায়িত্ব নিতে চাইছে না দিল্লি সরকার। তাই শ্রমিকদের জোর করেই রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।