ব্রিটেনে মিলেছে করোনাভাইরাসের নয়া স্ট্রেন। আর এরপরই সোমবার ব্রিটেনের সঙ্গে যাবতীয় উড়াান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। কিন্তু, শেষমুহূর্তে ব্রিটেন থেকে ভারতে পা রাখা যাত্রীদের কয়েক জন-কে নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রেও এই চিন্তা-টা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, ব্রিটেন থেকে গত সপ্তাহে কলকাতায় পা রাখা দুই যাত্রীর শরীরে করোনা সংক্রমণের এমন ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে যার চরিত্র নিয়ে ধন্ধ তৈরি হয়েছে। কারণ, এই ধরনের চরিত্রের ভাইরাসের নমুনা নাকি কলকাতার কোনও পরীক্ষাগারে আসেনি। জেনেটিক্যালি এই ভাইরাসের চরিত্র একটু ভিন্ন ধরনের। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে দুই যাত্রীর লালারসের নমুনা পুনের ভাইরোলজি সেন্টারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- করোনা নিয়ে নিজের মেজাজেই ট্রাম্প, লাইভে টিকা নিলেন ভাবী প্রেসিডেন্ট বাইডেন

জানা গিয়েছে, শনিবার এই দুই যাত্রী ব্রিটেন থেকে কলকাতায় আসেন। এদের কারও কাছেই করোনা-র আরপিটিসিআর রিপোর্ট ছিল না। বিমানবন্দরে সকলেরই রুটিন টেস্ট হয়। দুই জন যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে একজন-কে রাজারহাটের সিএমসিআই-এর করোনা সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। অন্যজন-কে ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়।

আরও পড়ুন- নতুন বছরে কি আরও বিপদ বাড়িয়ে দেবে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন, কী বলছে WHO

 

এদের নমুনা ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষাগারে আসতেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কারণ, দুজনেরই নুমনা-তে ভাইরাসের এমনকিছু চরিত্র পরিলক্ষণ করা যায় যার সঙ্গে এতদিনের ভাইরাসের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়নি। জেনেটিক্যালি এই ভাইরাসের চরিত্র এক্কেবারেই নতুন বলে মনে করছে ক্যালকাটা মেডিক্য়াল কলেজের পরীক্ষাগারের বিশেষজ্ঞরা। এমনকী ব্রিটেন ফেরত দুই যাত্রীর শরীর এবং আচরণ এমনকিছু জিনিসে লক্ষণ সামনে এসেছে যার সঙ্গে এতদিনকার করোনাভাইরাসের আক্রান্তদের সঙ্গে অনেকটাই অমিল রয়েছে। যার জেরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পুনের ভাইরোলজি সেন্টারে নুমনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই মোতাবেক ব্রিটেন ফেরত দুই যাত্রীর নুমনাই পুনে-তে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন- 'কেন্দ্র সতর্ক রয়েছে ভয় পাবেন না', ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন নিয়ে আশ্বাস ভারতের

ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজে ব্রিটেন ফেরত করোনা সংক্রমিত যে ব্যক্তিকে ভর্তি রাখা হয়েছে, তিনি এক চিকিৎসকের সন্তান। ব্রিটেনে তিনি পড়াশোনো করেন। করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে এতদিন আটকে ছিলেন। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন-এর প্রয়োগ শুরু হতেই তাই তিনি কলকাতায় ফেরত আসেন। আপাতত  ব্রিটেন ফেরত কলকাতার দুই যাত্রীর সহযাত্রীদের উপর নজর রাখা হয়েছে। এদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য দফতরের মনিটরিং সেল। 

কলকাতা ফেরত দুই যাত্রী ছাড়াও ইতিমধ্যে দেশজুড়ে এমন ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে যারা ব্রিটেন থেকে ফিরেছেন। ফলে ব্রিটেনে ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন পাওয়া যাওয়াটা একটা আতঙ্ক তৈরি করেছে স্বাভাবিকভাবেই। আপাতত প্রবল সতর্কতার সঙ্গে ব্রিটেন ফেরত যাত্রীদের নুমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা চালানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে।