শেষ ওভারে দরকার ১৬। হাতে তিন উইকেট। অন্য কোনও দল হলে হয়তো শনিবারই বিশ্বকাপে প্রথম পরাজয়ের স্বাদটা পেয়ে যেতেন বিরাটরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবথেকে বড় অঘটনটা ঘটল না। সৌজন্যে মহম্মদ সামির হ্যাটট্রিক। ১৯৮৭ সালে  চেতন শর্মার পরে কোনও ভারতীয় হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করলেন সামি। শেষ ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলে চার রান দিলেও তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে বাজিমাত করলেন বাংলার পেসার। বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে জেতালেন সামি। 

৪৯তম ওভারে বুমরাহ দেন মাত্র পাঁচ রান। শেষ ওভারে আফগানদের দরকার ছিল ১৬। আফগানিস্তানকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন মহম্মদ নবি। শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মারেন তিনি। কিন্তু ওভারের তৃতীয় বলেই নবিকে ফেরান সামি। ৫৫ বলে ৫২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন প্রাক্তন আফগান অধিনায়ক। সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। পরের দু' বলে আরও দুই উইকেট তুলে নেন সামি।

সামির হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও অবশ্য ম্যাচের সেরা হন যশপ্রীত বুমরাহ। ২৯ তম ওভারে দু' উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের জোরালো ধাক্কা দেন বুমরাহই। তার উপরে ডেথ ওভারগুলিতেও দুরন্ত বোলিং করেন ডান হাতি পেসার।

আফগানিস্তানকেও ১১ রানে হারিয়ে ২ পয়েন্ট পেয়ে শে চারের দিকে আরও একধাপ এগিয়েও গেলেন বিরাটরা। বিশ্বকাপে অপরাজিত ভারত এখন ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে পয়েন্ট  তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এল। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী নেট রান রেট বাড়িয়ে রাখা গেল না। বরং ভারতের দেওয়া ২২৫ রানের লক্ষ্য যেভাবে শেষ পর্যন্ত তাড়া করে গেলেন রহমত শাহ, নবিরা, তাতে এবারের বিশ্বকাপের সবথেকেবড় অঘটনটা ঘটে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

রক্তচাপ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হয়তো এল, কিন্তু একই সঙ্গে অনেকগুলো প্রশ্নও তুলে দিয়ে গেল আফগানিস্তান ম্যাচ। সবথেকে সহজ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই এবারের বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত সবথেকে কঠিন ম্যাচটা খেললেন বিরাটরা। ম্যাচ শেষে বিরাটও স্বীকার করে নিলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ম্যাচে সবকিছু হয়নি। যদিও তার জন্য ধীর গতির পিচকেও দায়ী করেছেন ভারত অধিনায়ক। 

আফগানিস্তান ম্যাচের পরে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে রবি শাস্ত্রী- বিরাট কোহলিদের। রোজ রোজ রোহিত শর্মা খেলবেন না। শুরুটা ভাল না হলে একা বিরাট কোহলি ছাড়া মাঝের ওভারগুলিতে চাপ সামলাবেন কে? বিশেষত এ দিনও বিজয় শঙ্কর, হার্দিক পাণ্ডিয়ারা যে ব্যাটিং করেছেন, তাতে টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়তে বাধ্য। চার নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি যে আদর্শ বিকল্প নন, তা আবারও প্রমাণ করলেন বিজয় শঙ্কর। কেদার যাদব অর্ধশতরান করলেও খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। ধোনিও চাপের মুহূর্তে প্রচুর বল খেলে শেষ পর্যন্ত রানের গতি বাড়াতে ব্যর্থ। 

বড় রানের লক্ষ্যে এ দিন টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন বিরাট। কিন্তু নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৪-এর বেশি তুলতে পারেনি ভারত। দলের হয়ে এ দিনও সর্বোচ্চ রান করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ৬৩ বলে ৬৭ রান করেন বিরাট। বিশ্বকাপে পর পর তিনটি অর্ধ শতরান হয়ে গেল বিরাটের।  কোহলির ব্যাটিং দেখে  মনে হয়েছে তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা যেন আলাদা পিচে ব্যাটিং করছিলেন। কোহলি ছাড়া কেদার যাদব অর্ধশতরান করেন। ৬৮ বলে ৫২ রান করলেও কখনওই ছন্দে দেখায়নি তাঁকে। জোড়া শতরানের পরে এ দিন মাত্র ১ রান করে ফিরে যান রোহিত শর্মা। মহেন্দ্র সিং ধোনিও ৫২ বল খেলে মাত্র ২৮ রান করেন। রশিদ, মুজিব এবং নবি- তিন আফগান স্পিনারের সামনেই এ দিন আটকে যায় ভারতীয় ব্যাটিং।

ব্যাটিং নিয়ে চিন্তার মধ্যেও বিরাটকে ভরসা দিলেন তাঁর  বোলাররা। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বোলিংকে কেন অন্যতম শক্তিশালী বলা হচ্ছে, তা এ দিন বোঝালেন বুমরাহ, শামি, কুলদীপরা। ব্যাটসম্যানরা ডোবালেও বোলারদের উপরে যে বিরাট ভরসা রাখতে পারেন, তা অন্তত এই ম্যাচে বোঝা গেল। চোট পাওয়া ভুবনেশ্বরের জায়গায় দলে এসে সুইং, গতির দুরন্ত মিশেল দেখালেন সামি। চাপের মুহূর্তে এ দিনও উইকেট তুলে এবং আঁটোসাঁটো বোলিং করে বিরাটকে বরাবরের মতো ভরসা দিলেন বুমরাহও।