পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বড় রান গড়তে অসুবিধা হয়নি যে ব্যাটিং লাইপের, আফগানিস্তানের সামনে তারাই আটকে গেল। আফগানদের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান তুললেন বিরাটরা। আঁটোসাঁটো বোলিং করে বিরাটদের বড় রান তুলতে দিলেন না রশিদ খান, মুজিবরা। গত বছর এশিয়া কাপে শেষ সাক্ষাতে ভারতের সঙ্গে ড্র করেছিল আফগানরা। এ দিন ফের অঘটন ঘটানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করল তারা। 

ভারতের হয়ে এ দিনও সর্বোচ্চ রান করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ৬৩ বলে ৬৭ রান করেন বিরাট। বিশ্বকাপে পর পর তিনটি অর্ধ শতরান হয়ে গেল বিরাটের।  কোহলির ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা যেন আলাদা পিচে ব্যাটিং করছিলেন। কোহলি ছাড়া কেদার যাদব অর্ধশতরান করেন। ৬৮ বলে ৫২ রান করলেও কখনওই ছন্দে দেখায়নি তাঁকে। এ দিন মাত্র ১ রান করে ফিরে যান রোহিত শর্মা। মহেন্দ্র সিং ধোনিও ৫২ বল খেলে মাত্র ২৮ রান করেন। 

ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে বেঁধে রাখতে এ দিন স্পিনের উপরেই ভরসা রেখেছিল আফগানরা। রশিদ, মুজিব এবং নবির স্পিনের জালে মাঝের ওভারগুলিতে খেই হারিয়ে ফেলেন ভারতীয়  ব্যাটসম্যানরা। কোহলি ফিরে যেতে অবস্থা আরও খারাপ হয়। তার উপর এ দিন সাউদাম্পটনের বাইশ গজও ছিল ধীর গতির, সঙ্গে ছিল অসমান বাউন্স। যার ফলে কখনওই প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপকে। 

ব্যাটিং ব্যর্থতার পরে তাই বেশ কঠিন পরীক্ষা ভারতীয় বোলারদের জন্য। তার উপর এই ম্যাচে দলে নেই ভুবনেশ্বর কুমার। যশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ শামি এবং কুল-চা জুটির স্পিন সামলে আফগানিস্তানের কাজটাও হয়তো খুব সহজ হবে না। কিন্তু এই ম্যাচে বড় রান তুলে রান রেট বাড়িয়ে রাখার যে সুযোগ কোহলিদের সামনে ছিল, তা হাতছাড়া হল। সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের বহু চর্চিত মিডল অর্ডার নিয়ে ফের একরাশ প্রশ্ন তুলে দিলেন রশিদ, মুজিবরা। চাপের মুখে ভারতীয় মিডল অর্ডার কতটা ভরসা দিতে পারবে, এ দিন সেই প্রশ্ন ফের সামনে চলে এল।