২২ গজে ফের মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। তবে, এই লড়াই হবে মরু শহর দুবাই-এ। এশিয়াকাপ ক্রিকেটের আসর পাকিস্তান থেকে সরানো হয়েছে এবং তা এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুবাই-এ। তাই ভারতের সেখানে খেলতে অসুবিধা নেই। একথা জানিয়েছেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। 

তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিসিসিআই কখনও বলেনি যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত আর ক্রিকেট খেলবে না। পাকিস্তানে এশিয়াকাপ হলে ভারত খেলবে না, সেটাই জানানো হয়েছিল। ভালো খবর যে এশিয়া কাপ ক্রিকেট দুবাই-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে ভারতের সেখানে খেলতে অসুবিধা নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট দল তাতে অংশ নেবে। 

পাকিস্তানে এবারের এশিয়াকাপের আসর বসার কথা ছিল। কিন্তু, বিসিসিআই জানিয়ে দিয়েছিল নিরাপত্তার কারণে ভারতীয় দল সেখানে ক্রিকেট খেলতে যাবে না। এই নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। পাক ক্রিকেট বোর্ড বুঝতে পারে যে তাদের দেশে এশিয়াকাপ হলে ভারতকে পাওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, ক্রমশই পাক ক্রিকেট বোর্ডের উপরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চাপ বাড়ছিল। কারণ, এশিয়াকাপ না হলে কাউন্সিলের একটা বড় রেভেনিউ আয়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। উপমাহাদেশের ক্রিকেট ম্যাপে ভারতের বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জশপ্রীত বুমরা একটা মেগা আকর্ষণ। সুতরাং, তাঁদের অনুপস্থিতি প্রতিযোগিতাকে ম্যাড়ম্যাড়ে করে দেবে। ফলে, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চাপে পিসিবি দুবাই-এ প্রতিযোগিতা সরাতে বাধ্য হয় বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল। 

এশিয়াকাপে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার রাতে দুবাই উড়ে গিয়েছেন সৌরভ। সেখানে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেবেন। ৩ মার্চ থেকে এই বৈঠক শুরু হবে। ২০১২-১৩ সালে পাকিস্তান ও ভারত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট দল ভারতে এসেছিল সীমিত ওভারের ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিতে। এরপর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তলা রাজনৈতিক উত্তেজনায় দুদেশ আইসিসি প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কোথাও একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেনি। 

এদিকে, মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত জায়গা করে নেওয়ায় এদিন হরমনপ্রীত কওরদের শুভেচ্ছা জানান সৌরভ। তিনি বলেন, গোটা প্রতিযোগিতায় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল দুরন্ত ক্রিকেট খেলেছে। তবে, বিশ্ব প্রতিযোগিতায় কোনও দলকেই ফেভারিট বলা যায় না। ভারত কোথায় গিয়ে শেষ করে প্রতিযোগিতা- সেদিকেই তাঁর চোখ আছে বলে জানান সৌরভ। 

পাশাপাশি, শনিবার থেকে শুরু হতে চলা রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলা ও কর্ণাটক, তা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। দুই মুরসুম আগেই বাংলা রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলো। কিন্তু, ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। ২০০৬-০৭ সালে বাংলা শেষবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে পৌঁছেছিলো। এবার কি ফাইনালে ওঠা হবে না কি সেমিফাইনালে-ই বিদায়? এই প্রশ্ন শুনে সৌরভ জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী বাংলা দলকে নিয়ে, তবে এই মুহূর্তে ফিঙ্গার ক্রসড করে রাখা ছাড়া আর তিনি কিছু করছেন না।