স্টিভ ওয়া কে এখনও বোঝার মতো বয়সই হয়নি ওর। পক্ক-কেশের প্রাক্তন অদি ব্যাটসম্যানকে ঘিরে পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে এত লোকের ভিড় কেন তা বুঝেই উঠতে পারছিল না বেহালার মুচিপাড়ার তিন বছরের খুদে বিস্ময় শেখ শাহিদ। স্টিভ ওয়া কে, না বুঝলেও এই বয়সেই সে এমন ব্যাট করে যে স্টিভ ওয়া-কে ছুটে আসতে হয় তার সঙ্গে দেখা করতে। গত ২৬ তারিখ এসেছিলেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। শাহিদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটানোর পাশাপাশি অভাবী পরিবারের এই বিস্ময় ক্রিকেটারকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গেলেন তিনি।

বেশ কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই শিশুর একটি ব্যাটিং-এর ভিডিও ক্রিকেট দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছিল। তাঁর খোঁজ করতে শুরু করেছিলেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন, কেভিন পিটারসেন-সহ অনেক তাবড় ক্রিকেটার। ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিও তার সেই ভিডিও রিটুইট করেছিলেন। অবশেষে জানা গিয়েছিল সেই খুদে বিস্ময় কলকাতারই বেহালার মুচিপাড়া অঞ্চলের এক অভাবী পরিবারের সন্তান শেখ শাহিদ।

আরও পড়ুন - ব্রায়ান লারা থেকে গিলক্রিস্ট-তেন্ডুলকর, অস্ট্রেলিয়া এখন মেতে স্টার চ্যারিটি ক্রিকেটে

এরপরই কলকাতায় আগমন ঘটে স্টিভ ওয়া-র। অবাক বিস্ময়ে স্টিভের দিকে তাকিয়ে তাকতে দেখা যায় শাহিদ-কে। একটি ফুলের তোড়া আর স্টিভের ছবি দেওয়া একটি কফি মাগ-ও বিশ্বজয়ী ক্যাপ্টেনের হাতে তুলে দেয় সে। স্টিভ-ও তাঁকে একটি ক্রিকেট ব্য়াট-সহ ক্রিকেটের বিভিন্ন সাজ সরঞ্জাম উপহার দেন। মুচিপাড়া এলাকার মাঠে ব্য়াট হাতে নেমে পড়তেও দেখা যায় তাঁকে।

আরও পড়ুন - সৌরভের নাম ভাঙিয়ে বিজ্ঞাপণ, ফ্ল্য়াট কিনতে গিয়ে ফাঁদে একাধিক মানুষ

 
শাহিদের বয়স মাত্র তিন বছর হলেও ব্যাটিং কলাকৌশলে সে একেবারে নিখুঁত। গ্লাভস পরে ঝানু ক্রিকেটারের মতোই নিখুঁত কভার ড্রাইভ মারে সে। শাহিদের । কি করে এত নিখুঁত ব্যাট করে প্রশ্নের উত্তরে খুদে বিস্ময়ের বাবা শেখ শামসের জানিয়েছেন ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সিরিজের সময়ই শাহিদের প্রতিভার কথা জানা যায়। ম্যাচ চলাকালীন হঠাতই শাহিদ ব্যাট হাতে নিয়ে কোহলি-কে নকল করে স্ট্রোক মারার চেষ্টা করতে শুরু করে। তখন বয়স ছিল আড়াই বছর।

আরও পড়ুন - আশা জাগিয়েও বেশিদূর এগোতে পারলেন না নতুন ভারতীয় ওপেনাররা

তারপর থেকে টিভিতে ক্রিকেট খেলা হলেই  টিভির সামনে থেকে তাকে ওঠানো যায় না। প্রথমে বাড়ির ছাদে চারিদিকে নেট লাগিয়ে শেখ শামসের-ই ছেলেকে প্র্যাকটিস করানো শুরু করেছিলেন। তারপর ভর্তি করে দেন বিবেকানন্দ পার্কে স্বামী বিবেকানন্দ স্কুল অফ ক্রিকেট-এ। প্রথমে শাহিদের বয়সের জন্য তাকে কোচিং করাতে চাননি প্রশিক্ষক অমিত চক্রবর্তী। পরে তার প্রতিভা দেখে আর ফেলতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে এগিয়ে এসেছিলেন বাংলার রঞ্জি ট্রফি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়-ও। তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শাহিদকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ক্রিকেটের যাবতীয় সরঞ্জামও কিনে দিয়েছেন শাহিদকে। এবার স্বয়ং স্টিভ ওয়া এসে দাঁড়ালেন শাহিদের পাশে।

আরও পড়ুন - লাবুছানের মধ্যে নিজেকে দেখছেন, জানালেন সচিন তেন্ডুলকর

শামসের-এর পরিবার থেকে এর আগে কেউ ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। কিন্তু, ছেলে শাহিদের মধ্যে যে মশলা আছে তা বুঝে গিয়েছেন তার বাবা। তাই ছেলেকে বড় ক্রিকেটার করাটাই এখন তার স্বপ্ন। স্টিভ ওয়ার মতো ক্রিকেটার ও অন্যান্য বড় ক্রিকেটাররা এগিয়ে এলেও শামসের চান তাঁর প্রিয় ক্রিকেটার মহারাজ তথা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-এর কাছে শাহিদকে নিয়ে যেতে। তাঁর আশীর্বাদ এবং তাঁর পরামর্শ মেনেই শাহিদ-কে ক্রিকেটার বানাতে চান তিনি।