দেশ জুড়ে  নিজের মারণ থাবা ক্রমশ বিস্তার করছে করোনা ভাইরাস। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। সামাজিক দূরত্বই করোনা ভাইরাসকে হারানোর একমাত্র পথ বলে জানিয়েছেন সারা বিশ্বের তাবড় তাবড় চিতিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে শনিবার  দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানায় আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাসের ছবি দেখেছে গোটা দেশ। যা দেখে আঁতকে উঠেছে দেশবাসী।  বাস টার্মিনাসে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য লাইন। লকডাউনের জন্য । কাজ খুইয়ে, অস্থায়ী বাসস্থান খুইয়ে দিশেহারা হয়ে উঠেছেন তাঁরা।এদের কেউ থাকেন বিহারের কোনও দেহাতি গ্রামে, কেউ বা ওড়িশার সীমানা লাগোয়া গ্রামে। কেউ বা থাকেন বাংলারই কোনও গ্রামে। কিন্তু লকডাউনের জন্য আটকে ছিলেন দিল্লিতে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা উপেক্ষা করেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের দেওয়া বাসে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। ছবি দেখে গোটা দেশের মনে একটাই প্রশ্ন জেগেছিল এদের মধ্যে যদি কয়েক জনেরও সংক্রমণ থেকে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি কোনও জায়গায় যাবে।

আরও পড়ুনঃকরোনা মোকাবিলায় ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন হরভজন সিংহ। ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার বলছেন, “লকডাউনের ঘোষণা করার আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল। ওদের থাকার জন্য বাড়ি নেই, খাওয়ার তেমন ব্যবস্থা নেই, আয়ের জন্য কাজও নেই। সরকারের উচিত ছিল এটা খেয়াল রাখা। আর ওদের জন্য অর্থ ও খাদ্য নিশ্চিত করা। এখন ওরা বাড়িতে ফিরে যেতে চাইছে। যে ভাবে গোটা পরিস্থিতি সামলানো হচ্ছে তা খুব বিরক্তিকর।” বর্ষীয়ান অফস্পিনার আরও বলেছেন, “পরিস্থিতি এত খারাপ হয়ে উঠবে এটা কেউ ভাবতে পারেনি। শহরগুলো লকডাউন হয়ে যাবে এটাও আন্দাজ করা যায়নি। পরিস্থিতি এত দ্রুত পাল্টেছে যে সরকারও ভাবনাচিন্তার সময় পায়নি। আশা করছি, নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য স্মার্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। শ্রমিকরা কেন ঘরে ফিরতে চাইছে এটা বুঝতে পারছি। ওরা চাইছে নিজেদের লোকের সঙ্গে সময় কাটাতে।”

আরও পড়ুনঃফের করোনা মোকাবিলায় ৩২ কোটি টাকা দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

আরও পড়ুনঃকরোনা যুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা দান অক্ষয় কুমারের, রিয়েল লাইফ হিরো বললেন হার্দিক পান্ডিয়া

ক্রিকেট নিয়ে হরভজনকে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন, 'এই মুহূর্তে ক্রিকেটের কথা মাথায় নেই। গত ১৫ দিন ধরে ক্রিকেটের কথা মাথাতেই আসেনি। দেশের কাছে ক্রিকেট খুব সামান্য একটা জিনিস। এখন যদি ক্রিকেট আর আইপিএলের কথা ভাবি, তবে তা স্বার্থপরতা হবে। আমরা নিরাপদ ও সুস্থ থাকলে খেলাধূলা ফের শুরু হবে। এখন আমাদের একত্রিত থাকতে হবে। দেশকে নিজের পায়ে ফের দাঁড় করাতে যৎসামান্য যা পারি, সকলকে তা করতে হবে।' সরকারির সমালোচনা করলেও, লকডাউনই যে একমাত্র পথ তা স্বীকার করেছেন ভাজ্জি।  দেশের বিপদের সময় সকলকে পাশে থেকে এক হয়ে লড়াইয়ের বার্তাও দিয়েছেন হরভজন সিং।