গলায় কেদারের বরফ। যেন কিছুই হয়নি। সন্ন্যাসীর নির্লিপ্তিতে এভাবেই বলতে শুরু করলেন। তিনি নরেন্দ্র মোদী, দেশের দ্বিতীয় বারের প্রধানমন্ত্রী। জয়ের কোনও কৃতিত্বই নিতে চাইলেন না তিনি। দেখে নেওয়া যাক কী বললেন তিনিঃ

  • কয়েক কোটি আমার তো ফকিরের ঝুলি ভরে দিয়েছে।
  • আমি ভারতের ১৩০ কোটি মানুষকে প্রণাম জানাই।
  • ২০১৯ এর এই মতপ্রকাশের নির্বাচন, লোকতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা। গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
  • দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু এবারই সবচেয়ে বেশি মতদান হয়েছে, ৪২ ডিগ্রি গরমের মধ্যে মানুষ ভোট দিয়েছেন। এই লোকতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতাকে দেখবে , চিনবে গোটা বিশ্ব।
  • লোকতন্ত্রের জন্যে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছে, আমি তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তাঁদের আত্মত্যাগ ভাবীকালের প্রেরণা হবে।
  • নির্বাচন কমিশন, সুরক্ষাবাহিনীকে নিজেদের দায়িত্ব পালনের কারণে আমি অভিনন্দন জানাই।
  • মহাভারতের ভাষণ শেষ হওয়ার পরে কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আপনি কাদের পক্ষে?  কৃষ্ণের সেই জবাব দিচ্ছে জনতা জনার্দন। কৃষ্ণ বলেছিলেন আমি ভারতের পক্ষে।  এবার দেশবাসীরাও দেশের জন্যেই ভোট দিলেন।
  • প্রথম থেকেই বলেছি, এই ভোটে কোনও দল লড়ছে না, লড়ছে জনতা। আমার কথা অনেকে বোঝেনি। আজ জিতল হিন্দুস্থান, লোকতন্ত্র , জনতা। তাঁদের পায়েই এই জয় উৎসর্গ করি।
  • সমস্ত বিজিত প্রতিনিধিদের আমি শুভকামনা জানাই।
  • চার রাজ্যে ভোটও ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা দল। আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাই।
  • ভারতীয় জনতা দলের সমর্থকরা  সবসময় গণতন্ত্রে পতাকা উর্ধ্বে তুলে রেখেছিল , তাঁদের এই উৎসবের মুহূর্তে আমি অভিনন্দন জানাই। 
  • আমরা কখনও আমাদের লক্ষ্য থেকে সরিনি। ক্লান্ত হইনি। নত হইনি। এই বড় যাত্রায় অনেক চড়াই উৎরাই রয়েছে। একদিন আমরা দুই ছিলাম, আজ দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হলাম। সেদিনও নিরাশ হইনি, আজও বিরাট উচ্চকিত নই।
  • ভারতের রাজনৈতিক পণ্ডিতদের নিজেদের ভাবনা বদলাতে হবে। একুশ শতকের ভারত নতুন ভারত।
  • অনেকে মোদী মোদী বলেন, এই জয় মোদীর নয়। এটা যুবকের স্বপ্নের জয়।
  • শৌচালয়ের জন্যে হত্যে দিয়ে বসে থাকা মানুষের বিজয় এটা।
  • এই জয় কিষাণের।
  • ৪০ কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের জয় এটা। আমরা তাদের পেনশান যোজনা দিয়েছিলাম।
  • ঘরহারা মানুষ যাঁরা পাকা বাড়ি পেয়েছিলেন, তাঁদের জয়।
  • ট্যাক্স দেওয়া মধ্যবিত্তের বিজ‌য় এটা।
  • ধর্মনিরপেক্ষতার নামে নানা কিছু হয়েছে এই দেশে। ২০১৯ এ এই জামাতিরা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৯ এ কেউ এই সেকুলারিজমের তাস খেলেই নি। 
  • এই ভোটে পাঁচবছরের শাসন নিয়ে কেউ কোনও কথা বলতে পারেনি।
  • ফলে রাজনৈতিক মাতব্বরেরা কী বলতে হবে ঠিকই করতে পারেনি।
  • আমি চাই , সরকারে যেই আসুক না আসুক , নতুন ছেলেমেয়েদের জীবনের জন্যে অখণ্ড ভারত থাকতে হবে। সমাজতাত্ত্বিকদের নিজের ভাবনাকেই প্রশ্ন করতে হবে। 
  • এখন এই দেশে দুই জাতি। দুই জাতিকেই কেন্দ্র করে চলবে দেশ। জাতির নামে খেলা চলবে না। এই দুই জাতি হল গরীব ভারতীয় আর অন্য জাতি হল গরীবী হঁটাতে যিনি কাজে আসবেন। এই দুই জাতিই দেশের কলঙ্ক দূর করবে।
  • মহা্ত্মা গান্ধীর ১৫০ বছর, দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর, এই পাঁচ বছরের মেয়াদে আসবে। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ মানুষ যা করেছে দেশের স্বাধীনতার জন্যে। এই সময়ে আমরা এদের স্মরণ করব। আমরা সংকল্প করি, এই পাঁচ বছরে এক নতুন ভারত গড়ব। স্বাধীনতার আদর্শেই আমরা গড়ে তুলব সমৃদ্ধ ভারত।
  • ভোটের প্রচারে যে যা করেছে, আমি কিছু মনে রাখব না। দেশের হিতের জন্যে সকলকে নিয়ে চলব নম্রভাবে।  
  • দেশ আমাদের অনেক অনেক দিয়েছে। দেশবাসীদের আমি বিশ্বাস দিতে চাই,  ২০১৪ তে না জেনে আমায় ভরসা করেছিলেন। এখন আপনারা জানেন। আপনাদের ভাবনাকে আমি বুঝি। ফলে আমার দায়িত্বও  বাড়ল। আমি আগামীদিনে আপনাদের এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করব না । ভুল হতে পারে। কিন্তু বদ মতলব থাকবে না আমার। আমি আমার স্বার্থে কিছু করব না। আমার শরীর এবং সময় দেশের জন্যে নিবেদিত থাকবে।