প্রথমে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভোট, তারপর ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বারেবারেই উত্তপ্ত হয়েছে ভাটপাড়া। এবার এই এলাকায় ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস রুখতে সক্রিয় হল নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকে ভাটপাড়ায় কমিশন অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করলো। অর্থাত কোথাও একসঙ্গে ৪ জনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবেন না। ফলে কার্যত বিজেপি দাবিই মেনে নিল কমিশন বলে মনে করা হচ্ছে।

লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে থেকেই বারেবারে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ভাটপাড়া বিধানসভা এলাকা। ভোটগ্রহণের দিনও বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং যেখানে যেখানে গিয়েছেন, সেখানেই তৃণমূলের বাধার মুখে পড়েছেন।

এই সংঘর্ষই তীব্র আকার নেয় বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচনের আগের দিনও ভাটপাড়া বিধানসবা কেন্দ্রের আর্যসমাজ এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগ ছিল। আগুন ধরানো হয়েচিল বেশ কয়েকটি গাড়িতে। ভোটের দিনই কাঁকিনাড়ায় দফায় দফায় বিজেপি-তৃণমূল সংর্ঘষ বাধে। এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি হয়, চলে গুলি, এমনকী পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। আগুন ধরানো হয় তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে।

ভোট মিটে গেলেও ভাটপাড়ার অশান্তি মেটার সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। সোমবারও বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ বেধেছে আর্যসমাজ এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামাতে হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাফও। এই অবস্থায় সোমবার বিকেলেই কমিশনের কড়া সিদ্ধান্ত জানানো হল।

রবিবার নির্বাচন মেটার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কমিশনের কাছে আদর্শ নির্বাচন বিধি বলবত থাকাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল। সোমবার গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রে না হলেও ভাটপাড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে কার্ষত বিজেপির সেই আবেদনই মেনে নিল নির্বাচন কমিশন, যাঁদের 'বিজেপির ভাই' বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বিজেপির সামনে কমিশনের মাথা নত করার অভিযোগ করেছেন রাহুল গান্ধীও।