পরিচালনাঃ অর্জুন দত্ত

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, অনুভব কাঞ্জিলাল, কৌশিক ঘোষ, আদিল হোসেন, লিলি চক্রবর্তী

গল্পঃ মা-ছেলের এক না বলার সম্পর্কের গল্পই হল অব্যক্ত। ছোট থেকে সন্তানকে আগলে রাখা, তাঁকে মানুষ করতে অচিরেই মেরে ফেলা সন্তানের মনের বাসনা, জমতে থাকা অভিমান, ক্ষোভই যেন তিলে তিলে বেড়ে ওঠে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে। পরিণততে সেই সম্পর্কর কী পরিণতী হতে চলেছে সেই গল্পই তারিয়ে তারিয়ে বলে অব্যক্ত। 

অভিনয়ঃ ছবিতে নতুন মুখ অনুভব। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ছবি করলেও, টলিউডে নিজের জায়গা পাকা করার জন্য অব্যক্তই সেরা ছবি। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের মন জয় করলেন অনুভব। মাঝে মধ্যে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয়ের ভারসাম্যে তারতম্য ঘটলেও নিজেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন এই অভিনেতা। পাশাপাশি ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে সকলের মন জয় করলেন অভিনেত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। প্রতিটি ফ্রেমেই যেন তিনি সেরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের চরিত্রের রং বদল করে অব্যক্তকে আরও যেন এক ধাপ এগিয়ে রাখলেন তিনি। 

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্য অনবদ্য। ছবির পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা এক না বলা সম্পর্কের কথা, লুকিয়ে থাকা এক সুপ্ত বাসনার কথাই ছন্দে ছন্দে মেলে ধরেছেন পরিচালক। গল্পের বুনট অসামান্য। পরিণত সংলাপ, পাশাপাশি গল্প বলার ধরন, এক কথায় পরিপূর্ণ ছবি অব্যক্ত। কোথাও গিয়ে যেন ছবির খামতিকে ছাপিয়ে গেল গল্পের গল্পের প্রেক্ষাপট। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ দৃশ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে এই ছবি এক ভিন্ন স্বাদ দিল। বৃষ্টি পরার দৃশ্য এক কথায় অনবদ্য। ক্যামেরা থেকে শুরু করে সেট, কস্টিউম এক কথায় অনবদ্য। বেশ কয়েকদিন পর গোছানো এক গল্পের দেখা মিলল অব্যক্ত ছবিতে। কঠিন কথাই সহজ করে বলা। সহজ করে উপস্থাপনা করা। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে কোনও অংশে খামতি রাখলেন না পরিচালক অর্জুন দত্ত। খুব যত্নের সঙ্গে তিনি পর্দায় অব্যক্তকে তুলে ধরলেন। শৈশব ও পরিণত, চাওয়া ও পাওয়া, আসা-যাওয়ার মাঝে আটকে থাকা এই সম্পর্ককেই যেন পরিচালক বুনে চললেন পর্দায়। ফেলে আসা অতীত থেকে বর্তমান, স্তরে স্তরে গল্প বলে চললেন পরিচালক, যা এক কথায় অনবদ্য।