পরিচালকঃ অনুমিতা দাশগুপ্ত

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্না সেন, অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু

গল্পঃ বহুদিন পরে কাছের মানুষকে ফিরে দেখা, মধ্যে কেয়ে যাওয়া অনেকটা সময়। সম্পর্কের মাঝে জমে থাকা হাজারও অভিমান, কষ্টের ভিড়ে কোথাও কী ফিরে পাওয়া সম্ভব পুরনো সম্পর্কের উষ্ণতা। এমনই এক জীবনের গল্প বলে বহমান ছবি। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পরে দেখা হওয়া দুটি মানুষের মনে কোণে রয়েছে কোন না পাওয়ার চাহিদা, তা তুলে ধরতেই এগোতে থাকে গল্প। 

অভিনয়ঃ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করেছেন অপর্না সেন। সৌমিত্র-অপর্না জুটি মানেই দর্শকদের খুব কাছের। বাস্তবের সঙ্গেই যেন অনেকটা মিল পাওয়া। না, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়, পর্দায় দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর যখন একি ফ্রেমে ফেরেন দুই তারকা, চরিত্রেরা তখন যেন এমনই স্মৃতি হাঁতরে ফেরে। গল্পে খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়কে। 

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যের বেশ কিছুটা অংশ জুড়ে রয়েছে সম্পর্কের উঠা নামার গল্প। যেখানে দেখা যায়, প্রতি পদক্ষেপে এক নয়া মোড় নিয়ে হাজির হয় অতীত। দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবারও দেখা। সেখান থেকেই দানা বাঁধতে থাকে এক নতুন গল্প। ছবির বেশ কিছু অংশ সংলাপ নির্ভর হলেও, তা অনেক বেশ বাস্তব লাগে অপর্না সেনের ক্ষেত্রে। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিটি শুরু হয়ে কলকাতার একটি দৃশ্য দিয়ে। যা দিয়ে বর্তমান কলকাতার একটি রূপ রেখা ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে ছবির শুরুতে। এরপরই নিজের খেয়ালে এগোতে থাকে গল্প। ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে ঝাঁচকচকে ফ্রেম। ছবিটিকে খুব যত্নসহকারে এডিট করা হয়েছে। গল্পের প্রতিটি ভাঁজেই রয়েছে এক অনবদ্য লুক।

পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনার ক্ষেত্রেও এক নতুনত্বের ছোঁয়া রয়েছে। অনবদ্য গল্প বলার ধরন। ছবির প্রথমার্ধ সকলের নজর কাড়লেও পরবর্তী অংশ আরও একটু জোড়ালো হতে পারত। খুব সুন্দরভাবে ছবিতে বেশ কয়েকটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। তিক্ততা ও অভিমান, আন্তরিকতায় মোড়া গল্পটি এক কথায় সকলের মন ছুঁয়ে যায়।