পরিচালকঃ অমর কৌশিক

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ আয়ুষ্মান খুরানা, ভুমি পেডনেকর, ইয়ামি গৌতমী

গল্পঃ চুল নিয়ে চুলো চুলি নয়, কেবলই সুন্দর চুলের খেতাব জিতে গর্বের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে চলার গল্প বালা। যেখানে হঠাতই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। পড়ে যেতে থাকে মাথার চুল। তা দেখা মাত্রই একের পর এক সমস্যা বাড়তে থাকে বালার জীবনে। অবশেষে আশ্রয় নিতে হয় পরচুলার। তা থেকে কি আদৌও সমাধান মিলবে! 

অভিনয়ঃ বালা ছবিতে আয়ুষ্মান খুরানা একাই একশো। অনবদ্য অভিনয় করে এক কথায় সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। যাকে বলে আরও এক ব্লকবাস্টার ছবি দর্শকদের উপহার দিলেন আয়ুষ্মান। একইভাবে ভারসাম্য রেখে নজর কাড়লেন ভুমি ও ইয়ামি। যদিও ছবিটি একাই টেনে নিয়ে গিয়েছেন আয়ুষ্মান। 

চিত্রনাট্যঃ বালা মজার ছবি তো বটেই। কিন্তু কোথাও গিয়ে যে কেবলই মজা তা নয়। বর্তমানের সামাজিক পরিস্থিতিতে এই গল্প ভিষণভাবে প্রাসঙ্গিক। যে মানুষ আর পাঁচজনের থেকে খানিক আলাদা, তাঁরই কপালে জোটে বেজার দুর্গতি। সেই গল্পই বলে এই ছবি। সংলাপ জুড়ে যেমন মজা, তেমনই আবার আবার সুন্দর কৌতুকের সঙ্গেই সেই বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুন্দর প্রয়াস বালা। 

সিনেমাটোগ্রাফিঃ এই নিয়েও বিশেষ কিছু বলার নেই। আয়ুষ্মান খুরানার মেকাপ বেশ চোখে লাগে। তবে কোথাও গিয়ে যেন তাঁর চুল উঠে যাওয়ার পর খানিক মানানসইয়ের অভাব লাগে। যদিও বিষয়টিকে খুব সুন্দরভাবে ম্যানেজ করেছেন পরিচালক। অন্যদিকে গায়ের রঙ কালো ভুমির। সেই মেকআপ আরও একটু জোড়ালো হতে ভালো হত। 

পরিচালনাঃ পরিচালক নিজের সর্বস্ব উজার করে দিয়েই তৈরি করেছেন এই ছবি। আয়ুষ্মার খুরানার এই ছবি যে লম্বা রেসের ঘোড়া, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একই প্রেক্ষাপটে কয়েকদিন আগেই ছবি মুক্তি পেলেও এই ছবি যেন কেবল আয়ুষ্মানের জন্যই তৈরি। যদিও গল্পর প্রথার্ধের থেকে দ্বিতীয়ার্ধে হাস্যরস কম, সেখানে কুসংস্কার, সামাজিক পরিস্থিতিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবুও এক মুহুর্তের জন্য দর্শকদের মনোভাব নষ্ঠ হয়নি।