পরিচালকঃ মেঘনা গুলজার

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ দীপিকা পাড়ুকোন, বিক্রান্ত মাসে, বৈভবী উপাধ্যায়, পায়েল কাপুর

গল্পঃ লক্ষ্মী আগরওয়ালের জীবনের কোলাজ, ছপাক। যেখানে একটি মেয়ের জীবন কীভাবে বদলে যেতে পারে রাতারাতি তারই ইতিকথা পরতে পরতে চোখে পড়ে। অ্যাসিড আক্রান্ত হওয়ার পরই নিজেকে হারিয়ে ফেলা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক অন্য মানুষ। সেখান থেকেই শুরু যুদ্ধ। ঘুরে দাঁড়ানো, শাস্তি দেওয়া ও নিজেকে প্রমাণ করার এক কঠোর শ্রম। সেই গল্পই ফুঁটে উঠেছে এই গল্পে। 

অভিনয়ঃ দীপিকা পাড়ুকোন জীবনের সেরা অভিনয় করেছেন এই ছবিতে। নিজের শেষ টুকু নিংরে দিয়ে পর্দায় ফুঁটিয়ে তুললেন লক্ষ্মী আগরওয়ালের যন্ত্রণা। কেবল তাই নয়, পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিলেন এক নয়া বার্তা। পুনরায় দাঁড়াতে হবে ঘুরে, জীবন শুরু করার এক স্বপ্ন, জীবনকে নতুন করে ভালোবাসার স্বপ্নই পরতে পরতে ছড়িয়ে দিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। 

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্য খুব যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিতে। ছকে বেঁধে একের পর এক গল্পের ভাঁজ ভাঙতে থাকে। আশানুরূপই এগোয় গল্পের গতি। ছবিতে সংলাপ অনেক বেশি সময় অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক। প্রথম থেকেই গল্প মনোসংযোগ ধরে রাখে। অনবদ্য গল্পের বুনট। প্রতিটি ধাপেই তা মন ছুঁয়ে যায়।  

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ সিনেম্যাটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ছবিটি কোথাও যেন সাধারণ ভাবেই পর্দায় তুলে ধরা হল। প্রথম থেকেই এক ছাপসা মধ্যবিত্ত পরিবারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দীপিকা পাড়ুকোনের মেকআপ থেকে শুরু করে তাঁর পোশাক সবই এক কথায় গল্পের সঙ্গে একশো শতাংশ মানানসই। কোথাও অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হয়নি এই ছবিকে। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে মেঘনা নজর কেড়েছেন সকলের। খুব সাধারণভাবে গল্পটিতে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। অ্যাসিড অ্যাটাক একটি স্পর্শ কাতর বিষয়, তাকে পর্দায় তুলে ধরতে কতটা যত্নের প্রয়োজন তা প্রমান করলেন মেঘনা। প্রথম থেকেই ছবিটি দর্শকদের মনোসংযোগ ধরে রাখতে সক্ষম।