পরিচালকঃ পাভেল 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ জিৎ, নুসরত, আবির

গল্পঃ তিন বন্ধু, যাঁরা কলেজ জীবন থেকেই একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন কীগান মান্ডি। যিনি একজন শিল্পী। পৃথিবীর বৃহত্তম দূর্গা তৈরির কাজ যাঁর কাঁধে বর্তায়। কিন্তু সেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়া মাত্রই নয়া মোড় নেয় গল্প। ফিরে আসে কলকাতার এক জীবন্ত স্মৃতি। বন্ধ হয় পুজো। অথচ এ সবকিছুর পেছনেই রয়েছে এই তিনজনের রসায়ণ। 

অভিনয়ঃ ছবিতে প্রতিটি প্রেক্ষাপটেই যেন জীৎ হাজির। প্রতিটি ফ্রেমেই তাঁকে দেখতে পাওয়া যায়। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর জুরি মেলা ভার। ছবিতে সকলের মন জয় করলেন তিনি। কোথাও গিয়ে যেন সেই দিক থেকে খানিক খামতি থেকে গেল আবিরের দিক থেকে। অন্যদিকে অনেকদিন পুর পর্দায় নুসরত। যদিও ছবিতে তাঁর বিশেষ ভূমিকা থাকলেও তাঁর চরিত্রের সঙ্গে খানিকটা যুক্তিহীনতা জড়িয়ে রইল। 

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যের কোথাও যেন তালের বড়ই অভাব। অভাব বুনটের। কেন, কীজন্য, এই ধরনের একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসতে থাকে গল্পের সঙ্গে সঙ্গে। একটি আদ্যপান্ত প্রেমের গল্পকেই যেন কলকাতার এক চেনা ঘটনার মোড়কে পরিবেশন করা হল। যা নজর খানিক কাড়লেও মন কাড়তে বেশ ব্যর্থ হল। সম্পর্কের জটিলটা, বাস্তবের সমীকরণ ও অপ্রীতিকর ঘটনা, সবই যেন একের পর এক হাজির পর্দায়। যুগসূত্রের বড়ই অভাব। 

সিনেমাটোগ্রাফিঃ সিনেম্যাটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ছক্কা হাকালো এই ছবি। একের পর এক ছবিতে জিৎকে যেভাবে দর্শকেরা পেয়েছেন, এই ছবি তার থেকে বেশ খানিকটা আলাদা। চেনা লুকে ছবির শেষ অংশ, ক্যামেরাতেই মন কাড়ল। ছবির সেট অনবদ্য। খুব সুন্দর ভাবে পুজোর ছবি তুলে ধরা হয়েছে।  

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে এবার বেশ খানিকটা খামতি রাখলেন পাভেল। এই ধরনের ছবি পরিচালনা তাঁর থেকে আশা করা যায় না। যাঁর ফলে বেশ কিছুটা বিপাকে পড়তে হয় তাঁকে। ছবির পরিচালনাতে কোথাও যেন খামতি থাকল বেশ। আপাত দৃষ্টিতে ছবির ট্রেলারে ছবি ঘিরে যে ইঙ্গিত মিলেছিল, এবার তা থেকে বেশ কিছুটা দুরে সরেই ছবিকে পর্দায় তুলে ধরলেন পাভেল। অভাব দেখা দিল ছবির ভারসাম্যে, অভাব দেখা দিল উপস্থাপনায়।