পরিচালকঃ অপর্ণা সেন

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ যিশু সেনগুপ্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, তুহিনা দাস

গল্পঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস ঘরে বাইরে-কেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্দায় তুলে ধরেছেন অপর্ণা সেন। যেখানে বিমলা পরিণত হয়ে হয়েছে বৃন্দাতে। সাংবাদিক নিখিলেশ সন্দীপ ও বৃন্দার চোখে এক ভিন্ন দেশের প্রতিচ্ছবি, স্বপ্ন। যা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে হাজারও মাইল দুরে। তবুও কোথাও গিয়ে যেন স্বপ্ন দেখা থেকেই যায় ভাঙা গড়ার মাঝে। 

অভিনয়ঃ সন্দীপের ভুমিকায় যিশু সেনগুপ্ত অনবদ্য। ঠিক একইভাবে নিখিলেশের চরিত্রে সকলের নজর কাড়েন অনির্বাণ। চরিত্রটিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরির করার পেছনে এঁনাদের অভিনয়ের দক্ষতাই যেন ছিল মূল অস্ত্র। তেমনই ছবিতে অভিনয়ের অনেকটা সুযোগ পেয়েছিলেন তুহিনা। তিনিও সুযোগকে পূর্ণ কাজে লাগিয়ে সকলের নজর কাড়লেন।

চিত্রনাট্যঃ গতুন করে কিছু বলার থাকে না। এ গল্প অল্প নিয়ে সকলেরই প্রায় জানা। তবে অপর্ণা সেন নিজের ছবিত একটু বেশি যত্ন সহকারে তিন চরিত্রকে গড়ে তুলেছেন। কোথাও গিয়ে তা ছবির পরতে পরতে অনুভব করা যায়। কিন্তু গল্প বলার ধরণ খানিকটা আলাদা হতে পারত। ছবির চিত্রনাট্যে প্রতিবাদী ভাষা থেকে শুরু করে অন্তিমে দুষ্টের দমন বাদ পড়েনি কিছুই। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফিতে বেশ নজর কাড়ে এই ছবি। যার পরতে পরতে রয়েছে এক নতুনত্বের ছোঁয়া। অপর্ণা সেনের ছবিতে ক্যামেরাতে বরাবরই  থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। অস্থির সময় থেকে শুরু করে রোম্যান্স, নিখুঁতভাবেই ফুঁটিয়ে তোলা হল এই ছবিতে। যা ছবিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে অপর্না সেন দশে দশ। প্রতিটি ধাপেই ছবিটিকে যত্ন করে উপস্থাপনা করার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন দুই অর্ধে ভারসাম্যের খানিক অভাব চোখে পড়ে। যার ফলে দর্শকদের মাঝে মধ্যেই মনোসংযোগ হারায়। যদিও ছবিটিকে আরও একটু বাস্তবের সঙ্গে তাল মেলানো যেত। গল্প আকরও একটু সরলীকরণ করে তুলে ধরা যেতে পারত।