পরিচালকঃ সৃজুত মুখোপাধ্যায়
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী দত্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য

গল্পঃ নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য থেকে শুরু করে মুখার্জি কমিশন। একের পর এক বৈঠকে তোলপার হওয়া একাধিক বৈঠকে নাজেহাল এক সাংবাদিক, নাম চন্দ্রচূর ধর ( অনির্বাণ ভট্টাচার্য)। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে নয়া তথ্য, তথ্যের সন্ধান। তা নিয়েই বারে বারে ফিরে আসা তৃতীয় থিওরি নিয়ে। যেখানে তাঁকে সাহায্য করে একটি গ্রুপ। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে উঠে আসে কোন নয়া চমক তা নিয়েই ছবি। 

অভিনয়ঃ অভিনয় নিয়ে বিশেষ কিছু বলার জায়গা রাখল না এই ছবি। অনির্বাণের চাঁচাছোলা সংলাপ, পর্দায় উপস্থিতি এক কথায় নজর কাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তনুশ্রী কোথায় যেন সামান্য চোখে লাগে। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের দুইয়ের এক যোগে অভিনয়ও বেজায় নজর কাড়া। গুমনামী বাবা কিংবা নেতাজিরূপে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের ধরন অনবদ্য। চরিত্রের দুই ভিন্ন সেডই যেন নজর কাড়ে সকলের। 

চিত্রনাট্যঃ এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে অনেক কিছু বলার থাকে। প্রথমেই যা সকলের বেশি নজরে আসে তা হল গল্প বলার ধরন। যুক্তি-তর্কের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে এই ছবির গল্প। কোথাও গিয়ে মতামত চাপিয়ে দেওয়া হননি। বরং সত্য ঘেঁটে কিছু টুকরো কোলাজকেই যেন একের পর এক জোরার চেষ্টা করা হয়েছে এই ছবিতে। তবে মাঝে মধ্যেই গল্পের মূল স্রোত থেকে সরে যাচ্ছিল ছবির বিষয়বস্তু। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ একঘেয়ে সিনেম্যাটোগ্রাফি থেকে বেড়িয়ে এসে একটু ভিন্নস্বাদের গল্প বলার চেষ্টাই করলেন পরিচালক। ফলে তাঁর ক্যামেরাও হল আলাদা ধাঁচের। সাদা-কালো থেকে রঙিন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিকে খুব যত্নসহকারে ফুঁটিয়ে তোলা হল ছবিতে। ফ্যাসব্যাক থেকে শুরু করে পুরোনো ছবির ব্যবহার, কোলাজ প্রভৃতিই ছবিকে এক ধাপ এগিয়ে দিল। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখেননি পরিচালক। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন গল্প থেকে প্রমমার্ধে মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলছিলেন দর্শক। ছবির দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ফিরে পাওয়া গল্পের স্বাদ। বাংলা-ইংরেজি-হিন্দি মিশ্রিত সংলাপেই যেন বাজিমাত। অনেক বেশি তা নজর কাড়ে। যদিও গল্পটা আরও একটু গভীরে প্রবেশ করতে পাড়ত। তবে অনির্বাণের মুখে স্পষ্ট সংলাপই দর্শক ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট।