পরিচালকঃ প্রতীম ডি. গুপ্তা

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অর্জুন চক্রবর্তী, মধুমিতা সরকার, পাওলি দাম, অনিন্দিতা বোস, অনির্বাণ চক্রবর্তী

গল্পঃ এক ভিন্ন স্বাদের সম্পর্কের গল্প নিয়ে এবার পুর্দায় হাজির হলেন পরিচালক প্রতীম ডি. গুপ্তা। সম্পর্ক রয়েছে, রয়েছে সম্পর্কের বিভিন্ন উঠা পড়ার গল্প। তবুও কোথাও যেন ভালোবাসাকে ছাপিয়ে যায় পরিস্থিতি। এমনই এক সম্পর্কের ঘেরা টোপে আবদ্ধ দুই মানুষের মধ্যে থাকা পরিস্থিতিই যেন মূল অন্তরায়। যা আবার গল্পের গতিও বটে। সম্পর্কের গল্প বলার জন্য ছবি, না ছবির গল্প তুলে ধরার জন্য সম্পর্ক, এই দোলা চলেই তৈরি লাভ আজ কাল পরশু।

অভিনয়ঃ অর্জুন চক্রবর্তীর অভিনয়ের ধার সকলেরই জানা। তবে যা সকলের নজর কাড়ে তা হল মধুমিতার অভিনয়। ছোট পর্দায় একাধিকবার সকলের নজর কেড়েছেন তিনি। তবে বড় পর্দায় এমনভাবে নিজেকে তুলে ধরলেন যা এক কথায় অনবদ্য। তাঁর সংলাপ উপস্থাপনা থেকে শুরু করে পর্দায় নিজেকে তুলে ধরা সবই যেন এক কথায় ছাপিয়ে যায় দর্শকদের প্রত্যাশা। পাওলি দামকে এই ধরনের চরিত্রে এর আগেও দেখেছেন দর্শকেরা। তাই চেনা ছকেই ধরা দিলেন অভিনেত্রী।  

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্য এক কথায় অনবদ্য। টানা তিন ঘন্টা প্রেম নিয়ে টানাপোরেন নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে গল্পের মোড় তুলে ধরাই যেন এই ছবির বিশেষত্ব। গল্পের নাম আক্ষরিক অর্থে সঠিক। কখনও রিয়ালিটি শো, কখনও আবার আইনি মারপ্যাঁচ। গল্পের ভেতর গল্প। সত্যি মিথ্যে চাওয়া পাওয়ার মাঝেই বুনে চলা চিত্রনাট্য এক কথায় অনবদ্য। 

সিনোম্যাটোগ্রাফিঃ সিনেম্যাটোগ্রাফির ক্ষেত্রে শুভঙ্কর ভড় এক নয়া নজির রাখলেন। কোথাও গিয়ে যেন খামতি থাকল না ছবির পর্দায়। আগাগোড়া ঝাঁ চকচকে একটি ছবি। যা পরতে পরতে চমক জাগায়। ঠিল ততটাই চোখের স্বস্তি তৈরি করতে সক্ষম এই ছবির ক্যামেরা। ছবির ট্রেলারেই তার ঝলক মিলেছিল। এবার ছবি জুড়ে সিনেম্যাটোগ্রাফির দাপট তাক লাগাল দর্শকদের। 

পরিচালনাঃ প্রতীম ডি. গুপ্তার পরিচালনায় তৈরি এই ছবি টলিউডে এক ভিন্ন স্বাদ এনে দিল। ছবি ঘিরে প্রথম থেকেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ছবি মুক্তির পরও তা যেন আরও বেড়ে উঠল। ভালোবাসার দিন মুক্তি পাওয়া আরও এক ভালোবাসার গল্প। পরিচালক সম্পর্কের গল্প বুনে আরও এক মুন্সিয়ানার পরিচয় দিলেন। গল্পকে তিন ধাপে নতুন নতুন ছকে বেঁধে ফেললেন তিনি। যা এক কথায় প্রশংসার দাবিদার।