পরিচালকঃ অরিন্দম শীল
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ কোয়েল মল্লিক, রিয়া বনিক, বিনায়ক পাঠক

গল্পঃ এক পার্শি দম্পতির আট বছরের ছেলে নিখোঁজ। তাঁরই তদন্তের দায়িত্ব পরে প্রজ্ঞা পারমিতার ওপর। তিনিই মিতিন মাসি নামে পরিচিত। একদিকে সংসার আর অন্যদিকে গোয়েন্দা, দুইয়ের সুক্ষ্ম ব্যালন্স করেই সত্য খোঁজার পথে পা বাড়ান তিনি। কিন্তু একের পর এক কোন রহস্যে জড়িয়ে পড়েছিলেন সেই নাবালক, তা উদ্ঘাটনের পথে আসে হাজার বাধা, পেরিয়ে কীভাবে পারবে মিতিন মাসি সমস্যার সমাধান করতে! গল্পে তাই ফুঁটে ওঠে। 

অভিনয়ঃ চরিত্রের সঙ্গে ভিষণভাবে সাবলীল মিতিন মাসি। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই যেন রযেছে এক পার্ফেক্ট লুকের সংজ্ঞা। শারীরিকভাবে ফিট, স্মার্ট, মিতিন মাসি লুকে এক কথায় অনবদ্য কোয়েল মল্লিক। চরিত্রের ছড়াছড়ি নেই ছবিতে। মিতিন মাসির স্বামীর ভূমিকাতে শুভ্রজিত দত্ত অনবদ্য। সকলের নজর কেড়েই চরিত্রকে ধরে রাখলেন তিনিও। 

চিত্রনাট্যঃ এই ছবিতে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বদলে ফেলা হল মিতিন মাসিকে, তবে তা কোনও অংশেই চোখে লাগে না। মিতিন মাসি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে রহস্যের সমাধান করেন, একাই লড়াই করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। কিন্তু কোথাও গিয়ে তা বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যায় না। খুব স্বাভাবিক ছন্দেই এগোতে থাকে গল্প। ছবির আদ্যপান্ত জুরে রহস্যের ছরাছরি। তাই দর্শকদের মনোসংযোগ কোথাও গিয়ে নষ্ট হয় না। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিকে খুব স্বাধাবিকভাবেই পর্দায় তুলে ধরা হল। ক্যামেরা ততটাই সাবলীল। কোথাও বাড়তি কাজ চোখে পড়ে না। জোর করে দৃশ্য চাপিয়ে দেওয়াও নয়। সব মিলিয়ে পর্দায় একটা সামঞ্জস্যতা বজায় রেখেই ধরা দিল এই ছবি। যা এক কথায় নজর কাড়ে।  

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও রকম খামতি রাখেননি পরিচালক। প্রতিটি ফ্রেমকেই যত্নের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। খুব স্বাঙাবিকভাবেই এগিয়ে চলে ছবি। গল্প কোথাও গিয়ে অবাস্তব কিংবা অতিরঞ্জিত মনে হয়নি। বরং যে ধরনের গোয়েন্দ ছবির চল এখন বাংলায়, মিতিন মাসি-কে ঠিক তেমন করেই তুলে ধরা হল।