পরিচালকঃ কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ দেব, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলি, রুক্মিনী, আদৃত

গল্পঃ ফোনে ভেসে ওঠে একটি আন নোন ফোন। আর সেই ফোন ধরা মাত্রই ঘটে বিপত্তি। ফোনের সমস্ত গোপন নথি হয়ে যায় বেহাত। এমনই পরিস্থিতিতে রীতিমত সমস্যার মুখে পড়তে হয় অনেককেই। মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে বসেন হ্যাকাররা। কী করে সম্ভব হল ভেবে না পেয়ে পুলিশের দারস্থ হওয়া। এই হ্যাকার দুনিয়ার রাজা ও রানি পরম ও পাওলি। অন্য দিকে দুই হ্যাকার রুক্মিনী ও আদৃত, যাঁদের সঙ্গে কর্মসূত্রে পরিচয় হয় দেবের। এরপর কীভাবে রহস্যের সমাধান হবে, তারই গল্প বলে এই ছবি। 

অভিনয়ঃ গোটা ছবিতে এক কথায় নজর কাড়লেন রুক্মিনী। তাঁর উপস্থিতি, অভিনয়, সবই যেন আর সবাইকে ছাপিয়ে গেল। দেব এই ধরনের চরিত্রে যথেষ্ট সাবলীল। অন্যদিকে পরম ও পাওলি কেউ কাউকে এক চুল জমি ছাড়েনি। বাঘা বাঘা অভিনেতাদের সঙ্গে থাকলেও আদৃত নিজের দাপট প্রমাণ করেছেন অভিনয় দিয়েই। 

চিত্রনাট্যঃ সামাজিক দিক থেকে এই ছবি যথেষ্ঠ প্রাসঙ্গিক। মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার গল্প বলে। সাসপেন্স আছে, গল্প আছে, অ্যাকশন আছে, সব মিলিয়ে একটি বলিউডের ছবিকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে পাসওয়ার্ড, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। বাংলায় এই ধরনের ছবির প্রয়োজন রয়েছে। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি নিয়ে অনেক কিছু বলার থাকে। এক্ষেত্রেও তাই হল। ক্যামেরা অনবদ্য। কোথাও গিয়ে গ্রিনস্ক্রিনের কাজ খানিক চোখে পড়লেও, ছবির বাকি অংশ ঝাঁচকচকে। গানের দৃশ্য থেকে অ্যাকশন। খুব যত্নসহকারে তৈরি করা হয়েছে।

পরিচালনাঃ ছবির পরিচালতার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাপ ফেলেগেল এই ছবি। আদ্যপান্ত জুড়ে এক নতুনত্বের ছোঁয়া। কোথাও গিয়ে মনো সংযোগ হারানো কিংবা এক ঘেয়ে লাগে না করুর। ততটাই প্রয়োজনীয় ছবির সংলাপ। দুই অধ্যায়ই খুব যত্নের সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।