পরিচালকঃ সন্দীপ রায়

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়

গল্পঃ প্রফেসর শঙ্কু ও এল ডো রাডো গল্পের সঙ্গে পরিচিত অনেকেই। এই গল্পে নকুড়বাবু একজন সাধারণ ব্যক্তি যাঁর মধ্যে রয়েছে এক অসাধারণ ক্ষমতা। তিনি ভবিষ্যত দেখতে পারেন। এমনই ভাবে তাঁর চোখে ভেসে ওঠে এক স্বর্ণ রাজ্যর রূপকথা। সেই পথে পাড়িদেন প্রফেসর শঙ্কু, খোঁজ নিতে আদৌ এমন কোনও জায়গার অস্তিত্ব রয়েছে কি না। সেই জার্নি গল্পের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছেন পরিচালক। 

অভিনয়ঃ পর্দায় প্রথম প্রফেসর শঙ্কু। ফলে ধৃতিমানের লুক বেশ নজর কাড়ে সকলের। অনবদ্য চরিত্রের উপস্থাপনা। প্রতিটি ধাপেই এক অনন্য রহস্যের মোড়কে দর্শকদের ঘিরে রেখেছিলেন তিনি। তেমনই অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন কেড়েছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। নকুড়বাবুর চরিত্র যেন তাঁর জন্যই অপেক্ষায় ছিল। মাঝে মধ্যে হাস্যরসের ছোঁয়া থাকায় আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে নকুরবাবুর চরিত্র। 

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্য শঙ্কুর গল্প অবলম্বণে লেখা হলেও কোথাও যেন এই পর্দায় গল্পকে ধরে রাখার জন্য গল্পের মাঝে খানিক পর্বর্তন করা হল। কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন করা হল সিক্যুয়েন্স। সংলাপ অনবদ্য, কিন্তু বেশ কিছু অংশ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আরো একটু যত্নশীল হওয়া যেতে পারত। তবে গল্প উপস্থাপনার ক্ষেত্রে বড্ড বেশি সহজপথ অবলম্বণ করা হয়েছে, আরও একটু সাজিয়ে উপস্থাপনা করলে আরও ভালো লাগতে পারত। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ শঙ্কু নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ না করার মূল কারণ ছিল গ্রাফিক্স ও বাইরের দেশে শ্যুটিং। বাজেট বৃদ্ধির ফলে একাধিক জায়গায় গিয়ে শ্যুটিং করলেও কোথাও গিয়ে যেন গ্রাফিক্সে মন ভরল না এই ছবি দেখে। গ্রাফিক্সের বিষয় আরও একটু সচেতন হওয়া যেত। তবে এই খামতি বাদ দিলে, শঙ্কুর ল্যাবরেটরি, সেট, আমাজনে শ্যুটিং সবই মন কাড়ে দর্শকদের। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের সবটুকু দিলেন সন্দীপ রায়। শঙ্কুকে নিয়ে একটু অন্যভাবে ভাবলেন তিনি। পর্দায় তাঁর প্রভাব লক্ষ্য করা গেল। মেকআপ থেকে সেট, পোশাক, সংলাপ, সময় ক্যামেরা সব মিলিয়ে এক কথায় হিট ছবিটি। শীতের ছুটিতে ছোটদের উপভোগ করার জন্য এটি আদর্শ ছবি।