পরিচালকঃ অতনু ঘোষ

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জয়া আহসান

গল্পঃ পরিস্থিতির কবলে পড়েই হোক কিংবা বড় হয়ে ওঠা দিয়েই হোক, বিপথেই চালিত হন ছবির নায়ক প্রজেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জীবনের প্রতিটি বাঁকে যার রয়েছে এক কালো অধ্যায়। সেই মানুষটির সঙ্গেই সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন জয়া। করেও ছিলেন। তবে দুজনের মধ্যে থাকা অন্ধকারের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে ওঠার ফলে পথ হয়ে যায় ভিন্ন। কোথাও গিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও ফিরে পাওয়া একে অন্যকে। কিন্তু এক ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে ধরা দেন দুজনেই। 

অভিনয়ঃ অনবদ্য অভিনয়ে নজর কেড়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও জয়া আহসান। তবে ধূসর চরিত্রে অভিনয় করা প্রসেনজিতের কাছে নতুন কিছু নয়। তাঁর কেরিয়ার জগতকে যদি দুটি পর্যায় ভাগও করা যায়, সেখানেও দুই সেডেই দেখা মেলে অভিনেতার। বাইশে শ্রাবণে এর আদেই দেখা গিয়েছে তাঁকে এমনই এক চরিত্রে। তবে এবার তাঁর উপস্থাপনা যেন ছাপিয়ে গেল সব কিছুই। আর প্রতিটি পদক্ষেপে অভিনয়ে ভারসাম্য বজায় রাখলেন জয়া। 

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য আরও অনেক বেশি সহজ হতে পারত। যদিও গল্প বলার ধরণকে ঠিক এমনই ভাবে পরিকল্পনা মাফিক সাজাতে চেয়েছিলেন পরিচালক। কেবলই সংলাপের ঘাত প্রতিঘাতে গল্পকে পর্দায় তুলে ধরাটা দক্ষতার পরিচয়। ছবির দুই অধ্যায়কে যথেষ্ট যত্নের সঙ্গে তুলেধরা হয়েছে গল্পে। যদিও নেই কোনও ফ্ল্যাসব্যাক। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিটির গুণগত দিককে যদি দুই পর্যায় ভাঙা যায়, তবে ছবির অভিনয় আসে প্রথমে আর দ্বিতীয়তে থাকে ছবির চিত্রগ্রহণ। খুব সুক্ষ্মভাবে প্রতিটি অনুভুতিকে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। আগা পাঁচতলা ঝাঁচকচকে ব্যাপার না থাকলেও গল্পের স্বার্থে তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

পরিচালনাঃ অতনু ঘোষের থেকে ঠিক যেমন ছবি দর্শকেরা আশা করে, রবিবার ঠিক তেমনই একটি গল্প। যেখানে বলার থেকে না বলা কথার ভিড় বিস্তর। যেখানে পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে এক না জানা অনুভুতির গল্প, হাঁতরে ফেরা ভালোবাসার গল্প। ছবিটিকে খুব যত্ন করে সাজিয়েছেন তিনি পর্দায়। খানিকটা সরলিকরণ দর্শকেরা আশা করলেও ছবিটি এতটাই গুরুগম্ভীর ভাব দাবি করে থাকে।