পরিচালনাঃ তুষার হিরান্ডানি

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ তাপসী পান্নু, ভূমি পেডনেকর, প্রকাশ ঝা

গল্পঃ সত্য ঘটনা অবলম্বণে তৈরি এই ছবির পরতে পরতে মিশে রয়েছে এক না বলা গল্পের রেশ। দুই বৃদ্ধা বন্দুকবাজদের গল্প নিয়েই তৈরি সন্ড কি আঁখ ছবি। ষাঠ বছরের বেশি বয়সের দুই বৃদ্ধার অনবদ্য লক্ষ্যভেদের ইতিহাসই তুলে ধরল এই ছবি। শুধথু দুই বৃদ্ধাই নয়, তাঁরা তাঁদের নাতনীদেরও নিশানায় পাক্কা তৈরি করতে উঠে পড়ে লাগেন। কিন্তু এক সময় এই রহস্য আর গোপন রাখা সম্ভব হয় না, তখনই বদলে যায় গল্পের মোড়। 

অভিনয়ঃ অনবদ্য তাপসী পান্নু ও ভুমি পেডনেকরের অভিনয়। দুই নায়িকাই একে অন্যকে টেক্কা দিয়ে পর্দায় ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। গল্পের উর্দ্ধে গিয়েই অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তাঁরা। গৃহ বধূ থেকে শুরু করে বন্দুক বাজ, প্রতিটি বয়সের ভাঁজেই তাঁরা যেন পার্ফেক্ট। 

চিত্রনাট্যঃ  ছবির টিত্রনাট্য খুব যত্নের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। উত্তরপ্রদেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার একটি ছাপ চোখে পড়ে এই ছবিতে। যেখানে মেয়েদের সমাজে পরিচিতি বলে কিছু থাকে না। কেবল মাত্র ওড়নার রঙ দিয়েই কেটে যেত একটা মেয়ের জীবন। এমনই এক পরিবার থেকে উঠে এসে ঘুড়ে দাঁড়ানোর গল্প বলে এই ছবি। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ সিনেম্যাটোগ্রাফি অনবদ্য। ক্যামেরার কাজ নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। তবে মেকআপ আরও একটু ভালো হতে পাড়ত। অধিকাংশ সময়ই দেখে মনে হয় জোর করে মেকাপ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ছবির এই খামতিকে শক্ত হাতে কাটিয়ে উঠেছেন তাপসী ও ভূমি। গল্প কোথাও গিয়ে যেন খানিক দর্শকদের এক পেশে মনে হতে পারে। তবে তা যে অনুপ্রেরণা যোগাতে সক্ষম, সেই বিষয় কোনও দ্বিমত নেই। 

পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনায় বিশেষ কোনও খামতি রাখেননি পরিচালক। অনবদ্য গল্প বলার ধরন। ছবির দুই অর্ধে খুব সুক্ষ্ম ভারসাম্য ধরে রাখা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ঘরোয়া পরিবেশ থেকে শুরু করে গ্রামীণ মানুষদের চিত্রায়ণ বেজায় সকলের নজর কাড়ে। তবে গল্পকে আরও একটু ফিল্মি কায়দায় তুলে ধরতে গিয়ে মাঝে মধ্যে বিষয়বস্তু থেকে খানিক সরতে হয়েছে পরিচালককে।