পরিচালকঃ শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ দেব, পাওলি দাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

গল্পঃ ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করে তোলা, তারপর একদিন তাঁরা সাফল্য অর্জনের পথে পা বাড়ায় বাড়ির বাইরে। পড়ে থাকেন বাড়িতে বয়ষ্ক মা-বাবা। এমনই সময় বার্ধক্যের জেরে আঁকড়ে ধরা দুই কাছের মানুষকে। প্রবাসী সন্তানের থেকে পাওয়া অবজ্ঞার ক্ষত কখন যেন মলিন হতে শুরু করে এই দুই মানুষের হাত ধরে। ছেলে মেয়েদের কাছে ব্রাত্য বাবার বাড়ি বিক্রি করাটাই আসল, কিন্তু সেই পথে অন্তরাায় হয়ে দাঁড়ায় চাঁদু। সাঁঝবাতি এমনই এক চেনা ছকে অচেনা গল্প বলে। 

অভিনয়ঃ ছবির শুরুতেই মন কাড়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সংলাপ বলার ধরণ থেকে শুরু করে পর্দায় চরিত্রের উপস্থাপনা, সবই দর্শকদের নজর কাড়ে। দেবকেও সাদামাটা চরিত্রে বেশ ভালো লাগে, সকলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয়ে ভারসাম্য বজায় রাখলেন ছবির পাওলি দাম। 

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্যে একই ধাঁচের গল্প ফুঁটে উঠলেও তা বলার ধরন বেশ খানিকটা আলাদা। যেভাবে তা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হল তা এক কথায় সেরা। অনবদ্য ছবির সংলাপ, খুব সহজ কথা সহজভাবে বলা। একই সঙ্গে গল্পের বিন্যাসও বেশ সুন্দর। ভারী ভারী সংলাপের বহার নয়, একই সঙ্গে নজরে আসে মজার ছলে গল্প বলার ছক ভাঙা প্রয়াস। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবির ক্যামেরা অনবদ্য। বিশেষ করে আউটডোর শ্যুটিং-এর অংশগুলো বেশি ভালো লাগার। ছবির গানের দৃশ্য থেকে শুরু করে সেট, সবেতেই এক কথায় সাঁঝবাতি একশোতে একশো। প্রথম থেকেই পর্দায় এক ঝাঁচকচকে ভাব। সব দিক থেকেই এই ছবি এক রাশ ভালোলাগা নিয়ে হাজির হয় দর্শকদের কাছে। 

পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় হলেও পরিচালকদ্বয়ের কাছে দর্শকদের স্বাদ বুঝে নেওয়াটা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ছোটপর্দায় কাজ করার দরুণ তাঁরা জানেন দর্শক কতটা চায় আর কতটা চায় না। ফলে সেই অনুযায়ী সাজিয়ে তুললেন তাঁরা ছবির গল্প। সাঁঝবাাতি-তে যেন দর্শকদের ভালোলাগার প্রতিটি উপাদানই সমান অনুপাতে সাজিয়ে দিয়েছেন পরিচালকদ্বয়। গল্পের বুনট থেকে শুরু করে চিত্রায়ণ সবই দর্শকদের মন কাড়ল এই ছবিতে।