পরিচালকঃ অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ ঋত্বিক চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়

গল্পঃ টাক নিয়ে বেজায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় অনেককেই। তেমনই পরিস্থিতি হয় আলোকেশের। যাঁর মধ্য বয়সেই ঝরতে থাকে মাথার চুল। এই অবস্থায় চুলকে আরোও ভালো করতে গিয়ে বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পা দেওয়া। আর সেখান থেকেই ঘটে বিপত্তি। তাতে চুল হওয়া তো দূর মাথায় পড় এক আস্ত টাক। এখান থেকেই ঘোরে গল্পের মোড়। 

অভিনয়ঃ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ে নজর কাড়লেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকা তাঁর আচরণ, পরিণত সংলাপ পাঠ, সব দিক থেকে ঋত্বিক ছবিকে একাই একশো। অন্যদিকে বলতে গেলে ততটাই গল্পে নজর কাড়লেন শ্রাবন্তী। দুজনের পর্দায় রসায়নও ছিল নজর কাড়া। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অভিনয়েই বাজিমাত করলেন তাঁরা।

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য কেবল টাকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং টাকের সমস্যার উর্ধ্বে গিয়ে তা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। বিজ্ঞাপনের প্রলোভন থেকে শুরু করে মানুষের আরও ভালো থাকার লোভ, আরও বেশি পাওয়ার লোভের ফলাফলই যে কতটা মর্মান্তিক হতে পারে, এবং এই চাহিদার ওপর নির্ভর করেই যে কোত বড় বড় সংস্থা হাজার হাজার টাকা লুটছে তারই গল্প বলবে টেকো। 

সিনেমাটোগ্রাফিঃ সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে ছবিতে বিশেষ কিছু বলার থাকে না। কারণ এই ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে রয়েছে এক ছাপোসা মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। যেখানে পরতে পরতে নজরে আজে এক না পাওয়া, এক অনুতাপের গল্প। ফলে ছবিতে দৃশ্যগ্রহণ ততটা প্রভাব ফেলেনি। দর্শকেরা গল্পের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছে, এটাই সিনেমাটোগ্রাফির বড় প্রাপ্তী।

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে কোনও রকম খামতি না থাকলেও, গল্পের শেষের অংশ আরও একটু বেশি জোড়ালো হতে পারত। ছবিতে প্রতিটা ধাপে গিয়ে কোথাও একটা নতুন করে ভাবনার জন্ম নেয় দর্শকদের মধ্যে। টেকো ছবি ভাবতে শেখাবে এমন কিছু বিষয় নিয়ে যা হয়তো সকলে জেনেও নিজেদের অগোচরে রেখে দিয়ে থাকি। পরিস্থিতিতে খুব যত্ন সহকারে দর্শকদের কাছে তুলে ধরা।