পরিচালকঃ সিদ্ধার্থ আনন্দ
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ হৃত্বিক রোশন, টাইগার শ্রফ, ভানি কাপুর
গল্পঃ ভারতীয় সেনা কবীর (হৃত্বিক রোশন) একজন সহকর্মীকের মারার পরই বদলে যায় আদ্যপান্ত। এক কথায় যাঁকে ঠেকানো দায়। তারই গতিকে কমাতে ও তাঁকে বিচারের পথে নিয়ে আসার জন্যই ছবিতে প্রবেশ খালিদের (টাইগার)। গল্পের মোড় কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, শেষে তাঁদের গুরুশিষ্য পরম্পরার সমীকরণ কী হয় তা নিয়েই ছবি। 

অভিনয়ঃ অভিনয় নিয়ে কোনও কথা বলার জায়গা রাখেননি কেউই। দুই এখন বিটাউনের বাঘা অভিনেতা। অ্যাকশন থেকে শুরু করে নাচ অভিনয়, যুদ্ধ চলে সমানে সমানে। পর্দায় ক্রমেই একে অন্যকে টেক্কা দিলেন দুই তারকা। গল্পেও তাই। তবে কোথাও যেন হৃত্বিক নিজের চেনা ছাপ ছেড়ে গেল ওয়ার ছবিতে।

চিত্রনাট্যঃ চিত্রনাট্য নিয়ে বিশেষ কিছু বলার না থাকলেও ছবির সংলাপ অনবদ্য। তবে যা না বললে নয়, তা হল গল্পের গতি। খুব সুন্দরভাবে তা বজায় রাখা হয়েছে। অ্যাকশন ভপুর হলেও ছবিতে গল্প রয়েছে। ওয়ার ছবির গল্প বলিউডে নতুন নয়। এই ধরনের প্রেক্ষাপটে ছবি তৈরি হয়েছে বহুবার। কিন্তু ওয়ার ছবিতে তা বদলে গেল আদ্যপান্ত। খলনায়কের ছাপ থাকলেও ছবির পরতে-পরতে নজরে আসে নিখাদ একটি সম্পর্কের গল্প। তবে কোথাও গিয়ে বাঘি ও ধুম-এর প্রভাব খানিক হলেও নজরে আসে দুই অভিনেতার স্টাইলে। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিতে সব দিক থেকে সাজিয়ে তুলতে ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফির দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। এই ছবিতে লোকেশন শ্যুটিং এক কথায় সকলের নজর কাড়ে। খুব সুন্দরভাবে দুই অভিনেতাকে তুলে ধরা হয় পর্দায়। এক কথায় বলতে গেলে অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স হলিউডের কথাই মনে করিয়ে দেয়। 

পরিচালনাঃ ছবিতে দুটি চরিত্রতেই এত যত্নসহকারে সাজানো হয়েছে যে কোনও একটি চরিত্রের দাপট নজরে পড়ে না। দুজনেরই অভিনয় ও উপস্থাপনাতে একটি সুক্ষ্ম ব্যালন্স বজায় ছিল। ছবির প্রথমার্ধ অতীতের বেশ কিছু গল্প তুলে ধরে। যা গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। যদিও কোথাও গিয়ে হৃত্বিককে চেনা লুকেই পেল দর্শক। ধুম ছবির হৃত্বিকের সঙ্গে এই চরিত্রকে অনেকেই মেলাতে পারবেন। তবে এক কথায় বলতে গেলে কেবলই অ্যাকশন নয়, রোম্যান্স, ড্রামা, নাচ, গান, টুইস্টভরা এই ছবি মানুষকে এন্টারটেইন করবে, সে বিষয় কোনও সন্দেহ থাকে না।