পরিচালকঃ বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত 

অভিনেতা -অভিনেত্রীঃ চন্দন রায় সান্যাল , পার্নো মিত্র

গল্পঃ বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ছবি মানেই বারেবারেই  ফিরে আসে পুরুলিয়া। সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে তার এই ছবি। সামান্য একজন মোকানিক যিনি কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি প্লেনের অংশ দেখে ঠিক করে সেও একদিন উড়োজাহাজে চড়বে। সেখান থেকেই শুরু হল তার স্বপ্নের যাত্রা। আকাশকে ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন। মেকানিক বাচ্চু মন্ডলের  আর্থ সামাজিক পরিস্থিতর তুলনায় বড্ড ভারী স্বপ্নটা। সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েনটা  যেন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বাস্তব আর পরবাস্তবের মধ্যে অনেক কিছুকে শেখাবে বাচ্চু। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের  অপরিণত শিশুসুলভ দিক পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছেন ছবিতে।

অভিনয়ঃ ছবির প্রধান চরিত্রে বাচ্চু ওরফে চন্দন রায় সান্যাল ফাটিয়ে অভিনয় করেছেন। তার সারল্য সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সিনেমার পর্দায়। গ্রামীণ সরলতা ফুটে উঠেছে তার অভিনয়ে। বাচ্চুর স্ত্রীর অভিনয়ে পার্নো মিত্র যথাযথ । তার চরিত্রে একাধিক স্তর না থাকলেও গ্রাম্য মহিলার চরিত্রে তিনি দারুণ অভিনয় করেছেন। দুজনের যুগলবন্দি অভিনয়ে ছবিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যে একটি সুপার স্ট্রাকচার রয়েছে।  সেই সুপারের ভিতরে রয়েছে একটি ইনার স্ট্রাকচার এই ছবিতেও এটি রয়েছে।  পরিচালকের সিনেমার সঙ্গে যারা পরিচিত, তাঁরা খুব সহজেই সুপার স্ট্রাকচার সরিয়ে ইনার স্ট্রাকটারে পৌঁছতে পারবেন। আর যারা বুঝবেন না তারা এই প্রথমবার তিনি সরল ন্যারেশনের ব্যবস্থা রেখেছেন।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ রোম্যান্স, ড্রামা, সরলতায় পরিপূর্ণ ছবিতে জীবনের ওঠা-পড়া খুব সাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে। অসীম বসুর ক্যামেরায় দৃশ্য ও চরিত্রগুলি যেন খুব সাবলীল ভাবে ফুটে উঠেছে। অলোকানন্দা দাশগুপ্তের আবহও যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে।

পরিচালনাঃ বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত 'উড়োজাহাজ' ছবিটি গতকালই মুক্তি পেয়েছে।  অনেকদিন পরে  'উড়োজাহাজ' নিয়ে ফিরলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।  সরল সহজ ছবিতে কবিসত্ত্বা পুরো মাত্রায় হাজির। যদিও কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছিল এই ছবিটি। তবে সবার পক্ষে তা দেখা সম্ভব হয়নি। কাল থেকে সকলের জন্য প্রেক্ষাগৃহে চলে এসেছে 'উড়োজাহাজ'। ইতিমধ্যেই উড়োজাহাজজন্য ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের আইকন অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে এই ছবি।