বিশ্ব জুড়ে ক্রমশ নিজের মারণ থাবা বিস্তার করেই চলেছে মহামারী করোন ভাইরাস। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। থমকে গিয়েছে গোটা বিশ্ব। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে কোভিড ১১৯ ভাইরাস। গোটা পৃথিবীতে বন্ধ সমস্ত স্পোর্টিং ইভেন্ট। সর্বত্র চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ছে বিশ্বের প্রায় সব ফুটবল ক্লাবই। আর সেটা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নিজেদের বেতন থেকে অর্থ দান করছেন ফুটবলাররা। এবার ক্লাবগুলির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা।

আরও পড়ুনঃপ্রয়াত হলেন ডার্কওয়াথ লুইস পদ্ধতির অন্যতম উদ্ভাবক টনি লুইস

এই প্রসঙ্গে ফিফার এক মুখপাত্র জানান, ‘বর্তমানে গোটা বিশ্ব যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তার মস্ত বড় প্রভাব পড়েছে ফিফার সহযোগী সদস্য ও ফুটবল সংস্থাগুলির উপরও। তাই সেই সব সংস্থা ও ক্লাবগুলির পাশে দাঁড়ানোর ভাবনাচিন্তা করছে ফিফা। সাহায্য প্রার্থীদের আওতায় থাকবে সকল ক্লাব, পেশাদার, অপেশাদার, যুব ও তৃণমূল স্তরের সকল ফুটবল সংস্থা। এটা পরিষ্কার যে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে বিশ্বের বহু মানুষ ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোটা ফিফার নৈতিক কর্তব্য।’ একই সঙ্গে ওই মুখপাত্র জানান, এই অর্থিক সাহায্য করার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফের এরকম কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি পদে লড়াইয়ের সময় ইনফান্তিনো পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, ‘ফিফার যা অর্থ সঞ্চয় রয়েছে, সেটা সকলের। শুধু ফিফা সভাপতির নয়।’ এখন সেই প্রতিশ্রুতি পালনের পথেই হাঁটতে চলেছেন ইনফান্তিনো। 

আরও পড়ুনঃ২০১১ সালে আজকের দিনে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ধোনির টিম ইন্ডিয়া, আজও অমলিন সেই স্মৃতি

আরও পড়ুনঃ'শুধু একটা ছয় নয়, বিশ্বকাপ জয়ে গোটা দল ও দেশের ভূমিকা ছিল' গম্ভীরের ট্যুইটে জল্পনা

ফিফার পরিচালন পর্ষদ ঠিক করেছে, ছ’টা কনফেডারেশন কর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর বলে উল্লেখ করে ফিফার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন। জুভেন্তাসের প্রধান আন্দ্রেয়া অ্যাগনেলি সংস্থার প্রধান। তাঁর আবেদনপত্রে তুলে ধরা হয়েছে ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা। “ইউরোপের ক্লাবগুলোর সামনে এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। স্থবির হয়ে গিয়েছে ফুটবল। ফুটবলার থেকে শুরু করে ক্লাবের স্টাফদের কীভাবে বেতন দেওয়া হবে কেউ জানে না। ফুটবলের মতো এত বড় ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রাখা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছি। আশা করি আপনারা আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন।” অ্যাগনেলির এই আবেদনের কারণে শুধু নয়, ফিফা কর্তারা উপলব্ধি করতে পারছেন বিশ্ব ফুটবল আজ কোথায় দাঁড়িয়ে! তাই অভয় দিয়ে জানিয়েছে, “আপনারা ভেঙে পড়বেন না। অর্থের অভাব নেই ফিফার। শীঘ্রই এই নিয়ে আলোচনায় হবে। তারপর আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা হবে।” শোনা যাচ্ছে ফিফা প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার নিয়ে ২১১টি ফেডারেশনকে সাহায্য করার কথা ভাবছে। আগামী চার বছর সাহায্য করার ভাবনা নাকি শুরু করে দিয়েছে। ফিফার আশ্বাসবাণীতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেযয়েছে ইউরোপ তথা বিশ্ব জুড়ে ফুটবল ক্লাব ও তাদের গভর্নিং বডিগুলি।