পাঁচটি জেলায় সেচ ব্যবস্থার ঊন্নয়ন তো বটেই, হাওড়া ও হুগলিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণে নয়া প্রকল্প চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর নয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্প রূপায়িত হলে গ্রামীণ হাওড়ার আর বন্যা হবে না। আগামী সোমবার থেকেই জেলায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।

কখনও ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার জন্য, তো কখনও আবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে, প্রতি বছর নিয়ম করে বন্যায় ভাসে গ্রামীণ হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ।  রাজ্যের এই চেনা ছবিটাই এবার বদলাতে চলেছে।  স্রেফ হাওড়াই নয়, পাশের জেলা হুগলিতে বন্যা 'অতীত' হয়ে যাবে! তেমনই আশ্বাস দিলেন খোদ পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের খিলা স্কুল মাঠে ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন তিনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সাতটি জেলায় এই নয়া প্রকল্পটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। খরচ হবে  ২,৯৩১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য বিশ্ব ব্যাংক এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণও সুদ-সহ রাজ্য সরকারই মেটাবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদী সরকারকে তাঁর কটাক্ষ, 'এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অবদান নেই। তাই নেপোয় মারে দই বলে কেউ বাজার গরম করতে পারবে না।' উদয়নারায়ণপুরে অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাস তৈরি ও খিলা  স্কুলের উন্নয়নের জন্যও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদানের আবেদনও মঞ্জু করার আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। 

আরও পড়ুন: উত্তর দিনাজপুরে সিএএ বিরোধিতায় স্কুল ছাত্ররা, তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি দেখছে বিজেপি

জানা গিয়েছে, এই ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের মুন্ডেশ্বরী নদী-সহ বিভিন্ন নিকাশি খাল থেকে পলি তোলা ও বিভিন্ন নদী বাঁধগুলিকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ তো হবেই, দুই বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি ও বাঁকুড়া জেলা চাষীরাও উপকৃত হবেন।